দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চের পর ফের শুক্রবার রেড রোডের সুভাষ স্মরণের মঞ্চ থেকেও এসআইআর নিয়ে আওয়াজ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রশ্ন, “নেতাজিকেও কি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতো যদি উনি বেঁচে থাকতেন?” এখানেই শেষ নয়, এসআইআর শুনানিতে চন্দ্র বসুর ডাক পাওয়া ও সাধারণ মানুষের হেনস্তার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “নেতাজিকেও কি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতো যদি উনি বেঁচে থাকতেন? তাঁকেও কি ডাকা হতো শুনানিতে? আপনি ভারতীয় কিনা, তার কৈফিয়ত চাওয়া হতো?” এরপরই চন্দ্র বসুকে শুনানিতে ডাকার প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, “চন্দ্রকেও তো ডাকা হয়েছে।” সাধারণ মানুষের হওয়া হয়রানি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের ১ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষকে ডাকা হয়েছে। এর আগে ৫৮ লক্ষ নাম্বার দেওয়া হয়েছে একতরফাভাবে। মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় দুই কোটি। সাত কোটি থেকে দুই কোটি বাদ গেলে বাকি কত থাকে?”
উল্লেখ্য, রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে, এর জেরে, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গেরুয়া শিবিরকে এর জন্য লাগাতার কটাক্ষ করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, এসআইআরের কারণে বহু মানুষ আতঙ্কে প্রাণ হারাচ্ছেন। যদিও বিজেপি, তৃণমূলের তোলা, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, এগুলি পুরোপুরি ঘাসফুল শিবিরের চক্রান্ত।
এই মুহূর্তের রাজ্যে চলছে এসআইআরের শুনানি পর্ব। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও ডাক পড়েছে শুনানিতে, যা জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। তৃণমূল কংগ্রেস এর তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যবাসীকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বহু জায়গা থেকে আবার অশান্তির চিত্রও ধরা পড়েছে। বিএলওরাও পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।



By









