দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: জল্পনার অবসান! যেমনটা মনে করা হচ্ছিল, ঠিক তেমনটাই হল। বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হলো শুভেন্দু অধিকারীকে। খবর জানাজানি হতেই জোর হইচই পড়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। তাঁর অনুগামীরা যে এতে খুশি হয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। আগামীকাল তিনি শপথ নেবেন এবং এরপর শুরু হবে তাঁর রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পথচলা।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
এই আবহে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে বেছে নেওয়া হবে বলে অনেকেই মনে করছিলেন। রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব কাকে দেওয়া যায়, তা ঠিক করতে কলকাতার মাটিতে পা রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বৈঠকে তিনি পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন শুভেন্দু অধিকারীকে। তিনি জানিয়েছেন, শেষ হয়েছে পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজ। শুভেন্দু অধিকারীর নাম উঠে এসেছে সর্বসম্মতিক্রমে। শাহ জানিয়েছেন, যাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই নাম বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর। আর কোনও নাম উঠে আসেনি।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী কারচুপির অভিযোগ তোলেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকেও এর পাল্টা দেওয়া হয় তাঁকে সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। আগামীকাল শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। এবার দেখার বিষয় যে রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করতে পারেন কিনা। বাংলার পরিস্থিতি আগামীদিনে কেমন হতে চলেছে, তা বলবে সময়।



By










