দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: স্ট্রংরুমের অন্দরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটে অবস্থানে বিক্ষোভে বসলেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রভাবশালী প্রার্থী কুনাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় প্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে কমিশন ও বিজেপি চক্রান্ত করে ভেতরে কারচুপি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, তাঁদের কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত পাহারায় ছিলেন। কিন্তু এরপর সেখান থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক তার পরেই একটি মেল পাঠিয়ে জানানো হয় যে স্ট্রংরুম আবার খোলা হবে বিকেল ৪টের মধ্যে। তৃণমূল প্রার্থীর প্রশ্ন, কর্মীদের যদি সরিয়েই দেওয়া হল, তবে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তড়িঘড়ি স্ট্রংরুম খোলার?
ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলেও। লাইভ স্ট্রিমিং বা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে বেশ কয়েকজন মানুষ কাজ করছেন এবং হাতে হাতে ঘুরছে ব্যালট পেপার। অথচ কমিশনের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে বিশেষ কিছু হচ্ছে না ভেতরে। এই বিষয়টি নিয়েই প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন দুই প্রার্থী। শশী পাঁজার প্রশ্ন, যদি কোনও কাজ চলে পোস্টাল ব্যালটেরই, তবে হঠাৎ কোথা থেকে এলো সেই ব্যালটগুলো এবং কেন তা আগে জানানো হলো না রাজনৈতিক দলগুলিকে।
শশী পাঁজা আরও বলেন, এক অত্যন্ত সেন্সেটিভ জায়গা স্ট্রংরুম। তা খোলার দরকার পড়লে, নিয়ম অনুসারে, প্রত্যেক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মানা হয়নি সেই নিয়ম বলে তাঁদের অভিযোগ। সরাসরি তোপ দেগে কুণাল ঘোষ বলেন, কমিশন আসলে চেষ্টা করছে বিজেপিকে বিশেষ সুবিধা করে দেওয়ার। তাঁদের সাফ কথা, এই বিক্ষোভ ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না এমন রহস্যজনক কাজের ঠিকঠাক ব্যাখ্যা দিচ্ছে কমিশন এবং অনুমতি দিচ্ছে তাঁদের ভেতরে ঢোকার। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।



By









