• Home
  • দেশ
  • Odisha: ওড়িশার বালাসোরে বিরল বনমানুষ; আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখে ৫টি ওরাংওটান শাবক উদ্ধার

Odisha: ওড়িশার বালাসোরে বিরল বনমানুষ; আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখে ৫টি ওরাংওটান শাবক উদ্ধার

Rare ape found in Balasore, Odisha; 5 orangutan cubs rescued to stop international smuggling

ভারতের মাটিতে সচরাচর দেখা না মেলা অত্যন্ত বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণী ওরাংওটান (Orangutan) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হলো। মঙ্গলবার ওড়িশার বালাসোর জেলার উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চল থেকে ৫টি ওরাংওটান শাবককে উদ্ধার করেছেন রাজ্য বন দপ্তরের কর্মীরা। ভারত তো বটেই, এমনকি কোনো প্রতিবেশী দেশেও প্রাকৃতিক পরিবেশে এই প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। মূলত ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের গভীর রেইনফরেস্টে এদের বসবাস। ফলে ওড়িশার বনে এই বিদেশি বন্যপ্রাণী কীভাবে এলো, তা নিয়ে রহস্য ঘনাক্রান্ত হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া পাঁচটি শাবকের মধ্যে তিনটি পুরুষ ও দুটি মাদী। তাদের বয়স আনুমানিক ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে।

উদ্ধার অভিযান ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সন্দেহ

স্থানীয় বনাঞ্চলে ছোট ছোট এই শাবকগুলিকে একসঙ্গে খেলা করতে দেখে খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। খবর পেয়েই দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়:

উদ্ধার সম্পর্কিত বিবরণ বন দপ্তর ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ
উদ্ধারস্থল ওড়িশার বালাসোর জেলার উপকূলবর্তী উদয়পুর-তালসারি বনাঞ্চল।
উদ্ধার হওয়া শাবক মোট ৫টি ওরাংওটান (৩টি পুরুষ, ২টো মাদী)। বয়স ৬ থেকে ১২ মাস।
প্রাথমিক অনুমান আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী চোরাচালানকারী চক্রের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বা আকাশপথে পাচারের সময় কোনোভাবে এরা এই বনাঞ্চলে হাতবদল বা ফেলে যাওয়া হয়েছিল বলে ধারণা।

আইইউসিএন (IUCN)-এর সংকটাপন্ন তালিকা ও ওরাংওটান

বিশ্বজুড়ে পোষ্য প্রাণী হিসেবে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এই ওরাংওটানগুলির বিপুল চাহিদা থাকায় চোরাশিকারি ও পাচারকারীদের প্রধান নিশানা হয়ে উঠেছে এরা:

  • তিনটি প্রধান প্রজাতি: বর্তমানে বিশ্বে ওরাংওটানের প্রধান তিনটি প্রজাতি রয়েছে—বোর্নিয়ান, সুমাত্রান এবং টাপানুলি।

  • সংকটাপন্ন অবস্থা (Critically Endangered): পরিবেশ সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন (IUCN)-এর লাল তালিকায় তিনটি প্রজাতিকেই অত্যন্ত বিপন্ন বা সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • একাকী জীবনযাত্রা: বনের উঁচু গাছে বাস করা এই বুদ্ধিমান প্রাণীরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে থাকে না, বরং একাকী জীবনযাপন পছন্দ করে।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও মন্ত্রীর নির্দেশ

ওড়িশার বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গণেশ রাম সিংখুন্তিয়ার নির্দেশে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

বন আধিকারিক প্রকাশচাঁদ গগিনেনি জানিয়েছেন, শাবকগুলির সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ভারত সরকারের ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB) এবং আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংস্থার সাহায্য নিয়ে এই পাচারচক্রের শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ওড়িশা পুলিশ ও বন দপ্তর।

Scroll to Top