• Home
  • বিদেশ
  • Nepal: কাঁপল মাটি, বিধ্বস্ত নেপালে এবার ভূমিকম্প!

Nepal: কাঁপল মাটি, বিধ্বস্ত নেপালে এবার ভূমিকম্প!

The ground shook, an earthquake struck devastated Nepal!

হিসাবহীন ধ্বংসলীলা চালানো হড়পা বান ও পাহাড় ধসের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিপর্যয়বিধ্বস্ত নেপাল। দেশের ‘ন্যাশনাল আর্থকোয়েক মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৩। ভূকম্পনটির উৎসস্থল ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মুস্তাং জেলার লোমানথাং এলাকায়।

হঠাৎ এই কম্পনে মুস্তাং ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মানাং, ডলপা ও মিয়াগদি জেলা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনিক স্তরে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা শুরু হলেও নতুন করে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও মেলেনি।

হড়পা বানের ধ্বংসাবশেষ ও ভয়াবহ প্রাণহানি

ত্রিশূলী ও ভোটেকোশি নদীর তাণ্ডবে গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, তা নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসকে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছে:

বিপর্যয়ের ক্ষেত্র বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান
প্রাণহানি ও নিখোঁজ সরকারি তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও ধসে এখনও পর্যন্ত ১,৩৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫,৩২৬ জন মানুষ।
উদ্ধার কাজ দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ৬ হাজারেরও বেশি অসুস্থ মানুষ চিকিৎসাধীন।
বিদ্যুৎ সংকট প্রবল কাদাস্রোতে অন্তত ১১টি প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হয়ে পড়ায় দেশের বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত।
আর্থিক ক্ষতি অসংখ্য ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর কড়া নির্দেশিকা

একদিকে উদ্ধারকাজ ও পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ভূকম্পনের আতঙ্ক—এমন আবহে নেপালের বলবেন্দ্র শাহর সরকার সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন বিধি নিষেধ জারি করেছে।

  • সরকারি অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক: অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি সাংবাদিক সরাসরি বন্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র: কভারেজের আবেদনের জন্য বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট, নিজস্ব সংবাদমাধ্যমের সুপারিশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা অনুমোদনহীন প্রবেশ রুখতেই প্রধানমন্ত্রী বলবেন্দ্র শাহর প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ চলাকালীন পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে পুনরায় ধস বা ভূকম্পনের আশঙ্কায় সতর্কবারাত জারি রয়েছে।

Scroll to Top