দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের মুখে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের। মনে একরাশ অভিমান নিয়ে তিনি ঘাসফুল শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কী কারণে এই পথে হাঁটতে চলেছেন তিনি, তাও তুলে ধরেন। আজ তিনি ফুরফুরা শরীফ যেতে পারেন এবং সেখানে আইএসএফের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সেই দলে যোগ দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে খবর।
সোমবার আরাবুল বলেন, “তাঁরা আমাকে বুঝলো না। পাঁচবার কেস খেয়েছি। তিনবার বহিষ্কৃত হয়েছি। সেই কারণে আজ তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি মনের দুঃখে।” মুখে তিনি দল ছাড়ার কথা বললেও, এখনো পর্যন্ত তেমন কোনও খবর পাওয়া যায়নি আনুষ্ঠানিকভাবে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এককালে ভাঙড় দাপিয়ে বেড়ানো আরাবুলকে সরিয়ে শওকত মোল্লাকে তৃণমূল কংগ্রেস তুলে ধরতে পারে সেখান থেকে আইএসএফকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। যদিও সরকারিভাবে দলের তরফ থেকে এই ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
তবে সাসপেন্ড হওয়া বা বহিষ্কার করা মূল কারণ নয়। সূত্র মারফত আরো জানা গিয়েছে যে বর্তমানে লাগাতার বিতর্কে জড়ানোর জেরে দলে নিজের গুরুত্ব হারিয়েছেন আরাবুল। শুধু তাই নয়, শওকত মোল্লার সঙ্গে অশান্তির জেরে অনেকটাই চাপে পড়তে হয়েছে তাঁকে। পঞ্চায়েত ভোটে জিতে প্রাক্তন বিধায়ক ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। ঘাসফুল শিবিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে শওকত ও আরাবুলের গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি অন্য রূপ নেয়। এরপরই দলে একঘরে হতে শুরু করেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে ইস্তফা দিয়ে আরাবুল ইসলাম কোন দলে যোগ দেবেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সোমবার তিনি ফুরফুরা শরীফ যাচ্ছেন এবং সব ঠিকঠাক থাকলে তিনি আগামীকাল যোগ দিতে পারেন আইএসএফে। যদিও এই ব্যাপারে তিনি কোনকিছু জানাননি। তাঁর বক্তব্য, “কিছু বলবো না এখন এই নিয়ে। বলবো পরিস্থিতি আসুক। তবে এটা বলতে পারি যে ২-১ দিনের মধ্যে যা হওয়ার হবে।” ঘটনা প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, আরাবুলকে ব্যবহার করে ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। তবে তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করে কথা বলেছেন আইএসএফের জেলা স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে এবং দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা দেখেছেন।



By










