দেবজিৎ মুখার্জি, শিলিগুড়ি: এসআইআরের অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত তালিকায় নেই বিশ্বজয়ী মহিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম! তাঁর নামের পাশে লেখা – ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’! এখানেই শেষ নয়, একই অবস্থা তাঁর দিদি সোমশ্রী ঘোষেরও। তাঁরও নামের পাশে লেখা – ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’! ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে গোটা শিলিগুড়িতে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে কি করে এটা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারকে ডাকাও হয়নি শুনানিতে।
রিচা ও তাঁর পরিবার শিলিগুড়ির ১৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তাঁর বাবা দেবাশিস ঘোষ। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি বলেন, “নথি হিসেবে ওর জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল এসআইআরের ফর্ম ফিলাপ করার সময়ে। বুঝতে পারছি না কেন এমনটা হল।” এরপর তিনি জানান যে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
অন্যদিকে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মেয়র গৌতম দেব নিজের মোবাইলে বিষয়টি দেখান এবং অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের নাম। যিনি বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন আমাদের দেশকে। ভাবা যায়? আসলে ভৃত্যের কাজ করেছে জ্ঞানেশ কুমার নেতৃত্বাধীন কমিশন। আমরা ব্যবস্থা করছি ফের ওর যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার। মুখ্যমন্ত্রীকেও আমি এই বিষয়টি জানিয়েছি।”
অবস্থান জানিয়েছেন স্থানীয় সিপিএম কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরাও। তাঁর বক্তব্য, “শুধু রাজ্যের নয়, রিচা গোটা ভারতবর্ষের গর্ব। নাম বাদ ওরও। ছেলেখেলা চলছে এসআইআরের নামে। শুধু রিচা নয়, বিচারাধীনের তালিকায় ওর দিদির নামও। অথচ ওর দিদি ভোট দিয়েছে লোকসভা, বিধানসভা, পুরনিগমে।” এরপর তাঁর হুংকার, “এর শেষ দেখে ছাড়বো আমরা। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যাব সোমবারই।”
এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। এমনিতেই বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্য রাজনীতি এক আলাদা রূপ নিয়েছিল। তার উপর শনিবার অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক পর্যায়ে একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখার যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নিয়ে আর কি হয়। বিষয়টি কোন পথে এগোচ্ছে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।



By










