দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: যেই ‘বঙ্কিমদা’ বলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছিল বিরোধীদের, এবার সে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যই যোগ দিলেন বঙ্গ বিজেপিতে। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরের পতাকা তুলে নিলেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি গেরুয়া শিবিরের কাছে একটি বড় বিষয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “এক প্রশাসনিক নির্দেশে মুছে ফেলা হয় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’এর সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ যুবকের তথ্য। তার বদলে তৈরি করা হয় এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক। যেখানে নথিভুক্ত হয়েছিলেন প্রায় ৪০ লক্ষ যুবক। পরে যুবশ্রী প্রকল্প চালু করা হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে যুবসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে বেকার যুবকদের জন্য। যা ব্যর্থ যুব সমাজের আসল কর্মসংস্থানের দরকার মেটানোর ক্ষেত্রে।”
অন্যদিকে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপিতে যোগ দিইয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দে মাতরম ভারতবর্ষের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসার চেতনা শক্ত করেছে। ওনার আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা অনুপ্রেরণা দেবে পশ্চিমবঙ্গকে ‘উন্নত বাংলা’ তৈরি করার পথে।” তাঁর সংযোজন, “এই যোগদান আরো মজবুত করবে ইতিবাচক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে একাধিকবার বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা মনীষীদের অপমান করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও গেরুয়া শিবির এই অভিযোগ বারংবার উড়িয়ে চলেছে। শাসকদলের অনেকেই দাবি করেছেন যে বিজেপি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে কতটা ভাবে, তা প্রমাণ করার জন্য হিড়িক পড়েছে তাঁর পরের জেনারেশনকে গেরুয়া শিবিরের পতাকা ধরানোর। এবার দেখার বিষয় যে এর থেকে কোন ফায়দা করতে পারে কিনা বঙ্গ বিজেপি। আর কিছুদিন বাদে হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে এর কোন প্রভাব পড়ে কিনা, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।



By









