দেবজিৎ মুখার্জি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। বলা ভালো, ক্রমশ রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে গোটা বাংলা। প্রতিটি অঞ্চলে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে সমস্ত রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে। বাংলার মসনদকে পাখিরচোখ করে নিজেদের সবটা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে ভারতীয় জনতা পার্টি ও সিপিএম, কংগ্রেস। বলা ভালো, কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না।।
এমনিতেই ভোটের আগে এসআইআর চালু হওয়ায় পরিস্থিতি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে রাজ্যের। সেই মাত্রা আরও বাড়লো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের, ভোটের আগে, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো নিয়ে। এই বিষয়ে যদিও তৃণমূল কংগ্রেস একেবারেই চিন্তিত নয়, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন দলের অন্যতম বর্ষীয়ান নেতা, তথা শ্রীরামপুর সাংসদ, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বক্তব্য তাঁর? তৃণমূল সাংসদের সাফ কথা, যতই বাহিনী নিয়ে আসা হোক না কেন, হয় ঘাসফুল শিবিরেরই হবে।
কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “৪৮০ কেন, ১৪৮০ দিক।” রাজ্যবাসী যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে আছেন, তাও তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, “ওদের কাছে বাহিনী আছে আর আমদের কাছে ১০ কোটি মানুষ।” তাঁর সংযোজন, “বাহিনী ভোট দেবে না। মানুষ দেবে।” ভোটের আগে থেকে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অস্বস্তি বাড়িয়েছে রাজ্য সরকারের। যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে তারা মুখ খোলেনি। তবে কমিশন সূত্রে খবর, কমিশন মরিয়া পশ্চিমবঙ্গে সুষ্ঠুভাবে ভোট করানো নিয়ে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) বড় ব্যবধানে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে বাংলায়। তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর ঘাসফুল শিবির ও তাদের জোট সঙ্গীদের মিলিয়ে আসনসংখ্যা ছিল ২১৪। অন্যদিকে, বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসনে। বাম-কংগ্রেস খাতা খুলতে না পারলেও আইএসএফ জয় পায় একটি আসনে।
তবে নানা উপনির্বাচনে জিতে ও বিরোধী শিবির থেকে বিধায়করা যোগ দেওয়ায়, শাসকদল ও তাদের জোট সঙ্গীদের মোট আসনসংখ্যা এখন এই মুহূর্তে ছাড়িয়েছে ২২০। অন্যদিকে বিজেপি নেমে এসেছে ৭০এর নিচে । এবার দেখার বিষয় যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর চিত্রতে কোন পরিবর্তন দেখা যায় কিনা। নাকি অব্যাহত থাকবে সবুজ ঝড়? সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আর কদিন পর।



By










