দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, যার মধ্যে অন্যতম বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলায় বাঙালি পরিচয় শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও হেনস্তা ও বাংলার মনীষীদের অপমান করা। এই আবহাওয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি শপথ নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী শপথ নিলেন তিনি? তাঁর অঙ্গীকার, বাংলা ভাষার উপর যারা আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াবেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই পুণ্যদিনে সম্মান জানাই বিশ্বের সকল ভাষা ও ভাষাভাষী মানুষকে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ভাষা-শহিদদের ও ভাষা-সংগ্রামীদের জানাই আমার প্রণাম ও অন্তরের শ্রদ্ধা। রবীন্দ্রনাথ – নজরুল – সুকান্ত – জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। এটা আমার গর্ব যে, আমাদের সময়ে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে আমরা সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি।”
তাঁর সংযোজন, “সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমরা সচেষ্ট হয়েছি। হিন্দি আকাদেমি, রাজবংশী ভাষা আকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি, সাঁওতালি আকাদেমি – সব করা হয়েছে। এটাও সুনিশ্চিত করেছি যে, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষা-ভাষী মানুষ তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।” এরপর নিজের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “একুশের এই পুণ্য দিনে আরও একবার অঙ্গীকার করছি — যে-কোনো ভাষার ওপর যদি আক্রমণ আসে – আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। সকল ভাষা সমান ভাবে সম্মাননীয়।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সূচনা আন্ডিভাইডেড পাকিস্তানের অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে বাংলা চালু করার দাবি ঘিরে আন্দোলন থেকে। আন্দোলন রোখার জন্য ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল করেন এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বাররা। তাঁদের এই নিজেদের শহীদ করা সফল হয়। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। ২১ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।



By









