দেবজিৎ মুখার্জি, মালদহ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে হাত শিবির, ওরফে কংগ্রেসের তরফ থেকে। তবে ভোটে নামার আগে তাদের চিন্তা বাড়ালো প্রয়াত এবিএ গনি খান চৌধুরির গড় মালদহ। কী হয়েছে? যাঁকে নিয়ে আশার আলো দেখছিল দল, সেই মৌসম বেনজির নূর এখন হয়ে দাঁড়ালেন চিন্তার কারণ। কংগ্রেসের অন্দরে এই ব্যাপারে সংশয় রয়েছে যে, তিনি হয়তো হেরে যেতে পারেন যদি একটি কেন্দ্র থেকে দাঁড়ান। সেই কথা মাথায় রেখে তাদের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।
হাত শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবির, আবার ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা মৌসম বেনজির নূরের। এই বিষয়টি একেবারেই ভালো চোখে নেননি মালদহের বাসিন্দা থেকে শুরু করে দলের নিচুতলার কর্মীরা। এই আবহে চিন্তা তৈরি হয়েছে কংগ্রেস নেত্রীর আসনকে কেন্দ্র করে। কোন আসন থেকে তাঁকে দাঁড় করানো যায়, তা নিয়ে চিন্তায় কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদহের একটি আসন থেকে ইশা খান চৌধুরী জিতলেও সেই জেলায় বর্তমানে কংগ্রেসের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে মৌসম বেনজির নূরকে দলে নেওয়া কি ভুল হয়েছে? খোদ গণি খানের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই চিন্তা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য তাই মনে করছেন। এবারের নির্বাচনের মূল ইস্যু এসআইআর। একদিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে জোর প্রচার চালিয়েছে লড়াইয়ের মাধ্যমে, তখন অন্যদিকে কংগ্রেস এই বিষয়ে তেমনভাবে ময়দানে নামতেই পারেনি। সুতরাং এই চিন্তাও রয়েছে দলের অন্দরে।
কোতোয়ালিতে এই প্রশ্নের উঠতে শুরু করেছে যে এমন পরিস্থিতিতে কি জিততে পারবেন মৌসম বেনজির নূর? জেলার কোনও আসনেই তিনি সুরক্ষিত নন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জেলা কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রদেশ কংগ্রেসকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মৌসুমকে প্রার্থী করার। যদিও ইশা খান চৌধুরী এই বিষয়ে কোনকিছু জানাননি। তবে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে প্রদেশ কংগ্রেস ও দিল্লির হাইকমান্ডের তরফ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হলে মৌসুমকে প্রার্থী করা হবে সুজাপুর এবং মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










