দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট সংক্রান্ত বিষয়ে আরো চাপে পড়ল বামেরা। হুমায়ুন কবিরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট করতে চাওয়ার বিষয়টি প্রথম থেকেই যে ভালো চোখে নেয়নি, তা বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে দেয় শরিকরা। শুধু তাই নয়, আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়েও আপত্তি তোলে তারা। পরিস্থিতি এই পর্যায়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত মাঝপথে বৈঠক ছাড়েন ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।
নরেন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা চাইছি শুধু বামফ্রন্টগতভাবে এক হয়ে লড়াই করতে। কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে লড়াই করার ফলে মুখ পুড়েছিল। জোটে নেওয়া যাবে না আইএসএফকেও।” যদিও কি কারনে এই জোট চাননা, তাও জানিয়ে দেন তিনি। নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস চলে যাচ্ছে বামপন্থীদের উপর থেকে এই জোট করতে গিয়ে।”
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবিরের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতা প্রবীর দেব ও আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়। প্রবীর দেব সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমকে জানান যে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথাবার্তা ভুল বার্তা দিচ্ছে সকলকে। একই বক্তব্য তপন হোড়েরও। তিনি বলেছেন, “যাই যুক্তি তুলে ধরা হোক না কেন হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে, আমরা তা মানছি না।”
এদিন হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে শরিক দলগুলির প্রশ্নের মুখে পড়ার পর মহাম্মদ সেলিম জানান যে সেখানে তিনি গিয়েছিলেন জেইউপি প্রধানের মন বুঝতে, তবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ শরীকরা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর সামনে বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁরা বামফ্রন্টগতভাবে এক হয়ে লড়াই করতে চান এবং জোটে কংগ্রেস, আইএসএফ বা জেইউপিকে চাননা। জানা গিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক ৩০টি মতো আসন দাবি করেছে। আরএসপি ২৩টি এবং সিপিআই ২০টি আসনের দাবি জানিয়েছে। এবার দেখার বিষয় যে এই জোটের সমস্যা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।


By










