• Home
  • জেলার খবর
  • “মুসলিম ভোট পাবেনা জেনে বাড়ায়নি” ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা না বাড়ানো নিয়ে দাবি অধীরের

“মুসলিম ভোট পাবেনা জেনে বাড়ায়নি” ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা না বাড়ানো নিয়ে দাবি অধীরের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “মুসলিমরা আর ভোট দেবে না জেনে ভাতা বাড়াননি” ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা না বাড়ানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি দাবি করলেন যে তৃণমূল সুপ্রিমো আঁচ করতে পেরেছেন যে তাঁর ঝুলিতে এবার মুসলিম ভোট আসবে না এবং সেই কারণেই তিনি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাবৃদ্ধি করেননি। 

সম্প্রতি, রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছে। সেখানে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। লক্ষীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ানো থেকে শুরু করে আশা কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানো, এমন অনেক বড় ঘোষণা করেছেন। সাথে রয়েছে যুবসাথী প্রকল্পও। সবমিলিয়ে, ভোটের আগে একেবারে কল্পতরু ঘাসফুল শিবির।

তবে এতকিছু ঘোষণার পরও যে জয় সহজ হবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য, তা দাবি করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, মুসলিমদের ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাবেন না জেনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, “বাংলার মুসলমানরা আর ওনাকে ভোট দেবেন না। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন এবং সেই কারণেই আর ভাতা বাড়েনি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের।”

এমনিতেই গেরুয়া শিবির লাগাতার দাবি করে যায় যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ভোটব্যাংক মুসলিমরা। তার উপর অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্যে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে, তা না বললেও চলে। যদিও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পরিষ্কার কথা যে এবারের নির্বাচনে নজর থাকবে মুর্শিদাবাদেই। সেখানকার ২২টি বিধানসভার বেশিরভাগই সংখ্যালঘু ভোট। গতবার সেখান থেকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২০টি এবং বিজেপি দুটি আসন।

অন্যদিকে গত লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ১৪টি আসনে।  কংগ্রেস চারটিতে, বিজেপি তিনটিতে এবং বামেরা একটিতে এগিয়ে। মুর্শিদাবাদের ৬০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট। তার উপর ঘাসফুল শিবিরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিজের দল খুলে বসেছেন এবং লাগাতার দাবি করে যাচ্ছেন যে মুর্শিদাবাদে তাঁর দল জিতবে। সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা না বাড়ানোতে মুর্শিদাবাদে কতটা প্রভাব পড়বে, সেদিকে এখন নজর রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম সমাজের বহু মানুষ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনরা ক্ষুব্ধ ভাতা না বাড়ায়। এবার দেখার আগে কি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top