• Home
  • জেলার খবর
  • “বরদাস্ত করা হবে না” মমতাকে পাল্টা জ্ঞানেশ কুমারের

“বরদাস্ত করা হবে না” মমতাকে পাল্টা জ্ঞানেশ কুমারের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে পাল্টা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিবৃতি দিয়ে পরিষ্কার করে দেওয়া হলো যে এসআইআরের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। শুধু তাই নয়, এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়ে যে আইন হাতে তুললে বা ভাঙলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর তরফ থেকেও যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তাও উড়িয়ে দেওয়া হয়।

কমিশনের তরফ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল আজ দেখা করেন কমিশনারের সঙ্গে। তাঁদের তরফ থেকে কিছু কথা পেশ করা হয় এসআইআর নিয়ে। জ্ঞানেশ কুমার সেই প্রশ্নের উত্তর এবং ব্যাখ্যা দেন। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন বা ভাঙেন, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতিতে পাল্টা হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা পাশাপাশি হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনা ঘটেছে বিডিও অফিস ভাঙচুরের। যেই কর্মকর্তারা এসআইআরের কাজ করছেন, তাঁদের উপর কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই ৭ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বিএলওদের ১৮ হাজার টাকার মধ্যে।” পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেমন ৩ জন নির্বাচনী তালিকা পর্যবেক্ষককে কমিশনের পরামর্শ ছাড়া বদলি করা ও বাতিলের অনুরোধ করা সত্বেও পদক্ষেপ না নেওয়া বা এফআইআর না করা ৪ কর্মকর্তা ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, এদিন বৈঠক সেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একহাত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার সহ গোটা নির্বাচন কমিশনেকে। তিনি বলেন, “আমি বহুদিন রাজনীতি করেছি দিল্লিতে। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এমন অহংকারী নির্বাচন কমিশন আগে দেখিনি।” তাদের মিথ্যাবাদী তকমা দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো প্রশ্ন তোলেন, “কেন নিশানা করা হচ্ছে বাংলাকে?” জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বেরিয়ে এসেছি ওনার সঙ্গে বৈঠক করে। জমিদারের মতো আচরণ ওনার। আমার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার কখনও কেউ করেনি। অপমান, অসম্মান করা হয়েছে আমাদের।”

তৃণমূল সুপ্রিমো আরো বলেন, “এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লক্ষ নাম। এই কাজ সীমা কান্না করেছেন এআই দিয়ে। আমি বলছি, প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা জিজ্ঞেস করুন যে ওনার মা-বাবার জন্ম তারিখ জানেন কি?” পাশাপাশি, এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বয়কটের সিদ্ধান্তের কথাও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরবর্তী স্টেপ কি হবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সোমবার আলোচনা করা হবে এবং কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা ঘোষণা করা হবে আগামীকাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top