দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “কাজ ছাড়া আর কি আছে?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা বা অবদান কতটা, সেই ব্যাপারে ধরনা মঞ্চ থেকে জানালেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। কী বললেন তিনি? নিজের বক্তব্যে তিনি সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি এও মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যু পর্যন্ত যেখানে থাকবেন, তিনি সেখানে তাঁর পাশে থাকবেন।
সম্প্রতি, প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের অসমাপ্ত চূড়ান্ত তালিকা। তাতে দেখা গিয়েছে যে বাদ গিয়েছে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম। এখানেই শেষ নয়, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় রয়েছেন ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই তীব্র কটাক্ষ করা হয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের তরফ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে শুক্রবার, ৬ মার্চ, প্রতিবাদ জানাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা ধর্মতলায় ধরনায় বসবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী এদিন ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। মঞ্চ থেকে তিনি গেরুয়া শিবির ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন। এরপর একেক করে অনেকে বক্তব্য রাখেন। নিজের বক্তব্য মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি জানান নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর লড়াই ও অবদানের কথা।
জয় গোস্বামী বলেন, “১৪ই মার্চ যখন গুলি চলে নন্দীগ্রামে, একজন গাড়ি নিয়ে চললেন সেই রাতে সেখানে পৌঁছাবেন বলে। কবীর সুমন ছিলেন তাঁর সঙ্গী। সেই সময়ের শাসকদলের পুলিশ তাঁদের রাস্তায় ৩ বার বাঁধা দেয়।” তাঁর সংযোজন, “তিনি প্রণব মুখোপাধ্যায়, এমনকি মনমোহন সিংকে ফোন করেছেন। হাসপাতালে পৌঁছান পৌনে চারটে নাগাদ তিনবার রাস্তা ক্লিয়ার করে। তখন মারা যাচ্ছেন একের পর এক লোক। ভোর পাঁচটায় তিনি নন্দীগ্রাম পৌছান।” কবীর সুমনের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “সেদিন ওনার সঙ্গে এই লোকটি ছিলেন।”
মঞ্চ থেকে জয় গোস্বামী আরও একটি ঘটনা বলেন। বিশিষ্ট কবি বলেন, “একদিন আমরা মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে ছিলাম। তখন রাত এগারোটা বেজে ১৫ মিনিট। মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি ওনাকে বললাম বাড়ি যাবেন তো মমতা? উনি নন্দীগ্রাম যাব বললেন। আমি বললাম এখন? মুড়ি খেতে খেতে শান্ত গলায় উনি বললেন জয়দা আমাদের কাজ করা ছাড়া আর কি করার আছে?” এরপরই কবি জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যু পর্যন্ত যেখানে থাকবেন, আমি সেখানে থাকবো। আমি থাকব তাঁর পাশে।” প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল জয় গোস্বামীকেও, যা ঘিরে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল গোটা রাজ্যে। শাসকদলের তরফ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছিল।



By










