দেবজিৎ মুখার্জি: শুক্রবারের পর থেকে জাতীয় রাজনীতিতে একটাই নাম ঘোরাফেরা করছে আর সেটা হল দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তথা আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওটা অভিযোগের বিরুদ্ধে যেভাবে তিনি লড়াই করে জয় পান, তার প্রশংসা করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি একটি বড় জয় এবং একইসাথে বড় ধাক্কা গেরুয়া শিবিরের জন্য। যদিও এর বিরোধিতা করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অ্যাপিল ফাইল করেছে সিবিআই। তবুও চারিদিকে এখন চলছে কেজরিওয়ালের জয়জয়কার।
কেজরিওয়ালের এই জয় প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তাঁর গুরু আন্না হাজারে। আবগারি দুর্নীতির বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই তিনি দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন আম আদমি পার্টি সুপ্রিমোর থেকে। এমনকি শিষ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কেজরিওয়াল নিজের কপালে লেগে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের দাগ মুছে ফেলতেই সবটা পাল্টে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আন্না হাজারে পরিষ্কার করে দেন যে আদালতের দেওয়া এই রায় মেনে নিতে হবে সকলকে।
আন্না হাজারে বলেন, “বিচার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে আমাদের দেশ। দেশের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থা। আমাদের দেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ এবং সম্প্রদায় মিলিয়ে তৈরি। আমাদের দেশ ঠিকঠাক চলছে বিচার ব্যবস্থার কারণে।” তাঁর সংযোজন, “আমি যেটা বলছিলাম অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিয়ে, তা বিচার বিভাগের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত আসার আগে। এখন কোর্টের তরফ থেকে রায় দেওয়া হয়েছে যে এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয় কেজরিওয়াল। আমাদের মেনে নিতে হবে এই রায়।”
স্বাভাবিকভাবে আন্না হাজারে যে মন্তব্য করলেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে গুরু ও শিষ্যের মধ্যে দূরত্ব কি এবার মেটার পথে? কেজরিওয়াল রেহাই পেয়ে গেলেও দিল্লি হাই কোর্টে গিয়েছে সিবিআই। সেক্ষেত্রে বিষয়টি যেখানেই থেমে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে এই লড়াই কোনদিকে যায়। বিজেপি ও আপের মধ্যে এই রাজনৈতিক লড়াই কি রূপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে দিল্লিবাসী সহ গোটা দেশের নাগরিকদের।



By











