দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ করার লোক নই আমরা” ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়া রুখতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এখানেই শেষ হয়, তাঁর সাফ কথা, এগুলি করে কোনও লাভ হবে না এবং লড়াই চলবে।
পশ্চিমবঙ্গে অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে নানাভাবে চাপে পড়ে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে হোক কি বাইরে, সব জায়গাতেই তাঁর বিরুদ্ধে উঠে চলেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। যদিও দলের তরফ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে সমস্যার সমাধানের। পাশাপাশি, বিরোধীদের কটাক্ষের মুখেও তাঁকে সহ গোটা দলকে পড়তে হচ্ছে লাগাতার।
এই আবহে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের জন্য হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গত বুধবার প্রথমে তাঁর শান্তিনিকেতন বাড়িতে যান ইডি আধিকারিকরা। তবে সেখানে তাঁকে না পেয়ে কালীঘাটের বাড়িতে যান তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে তিনি যোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। সেই কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় ইডির আধিকারিকদের। তবে এরপর এক আধিকারিক ইডির সেই সমন গ্রহণ করে নেন বলে খবর। নির্দেশানুসারে সোমবার, ১৫ জুন, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকাল ১১টার কিছুক্ষণ আগে তিনি সেখানে পৌছান।
১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর বেরোন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে যতবার ডাকা হবে ততবার যাবেন। এরপরই গেরুয়া শিবিরের চক্রান্ত নিয়ে নিজের অবস্থান জানান তিনি। ডায়মন্ড হারবার সাংসদ বলেন, “যাতে বিরোধীরা বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি না পায়, তাই ষড়যন্ত্র হয়েছে। দল, বিধায়ক-সাংসদ ভাঙানো হয়েছে। কোনও লাভ নেই এসব করে। গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ করার লোক নই আমরা। লড়াই চলবে।”



By










