দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান, তথা প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক, হুমায়ুন কবীর। কী বললেন তিনি? বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভাইপোকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের মতো। কোনও কর্ণপাত করা হয়নি আমার আগের কথায়, আজ খেসারত দিতে হচ্ছে তার।” হুমায়ুন কবীর আরো দাবি করেন যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশলের জেরেই দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং ভোটের ফলাফলে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
তবে সমালোচনার পাশাপাশি হুমায়ুন কবীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবারও বিধানসভায় আনার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, “আজকের দিনে দরকার ছিল বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢোকা বা থাকাটা। সেক্ষেত্রে উনি যদি এই বয়সে বিধানসভায় আসতে চান, তাহলে আমি বলতে পারি উনি নন্দীগ্রামে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, “রেজিনগরে শেষ কথা বলে হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলকে আমি ৮১ হাজারে এবং বিজেপিকে ৫৯ হাজারে হারিয়েছি। ওই আসনে আমি ফের নির্দ্বিধায় জিতে আসবো মানুষের সমর্থনে। যদি নেত্রী চান, যে দুর্বলতা আমার তাঁর প্রতি, যদি তিনি আমাকে নিজে থেকে ডেকে বলেন যে সুযোগ করে দাও বিধানসভায় যাওয়ার, ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা করে দেব বিধানসভায় ঢোকার।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল দুটি দফায় এবং ফলপ্রকাশ হয়েছিল মে মাসের ৪ তারিখে। দুশোর বেশি আসন নিজেদের নামে করে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যায় একশোরও কম আসন। শূন্যের গণ্ডি পেরিয়েছে সিপিএম ও কংগ্রেস। অন্যদিকে, নিজেদের গড় ভাঙর ধরে রাখতে সফল হয় আইএসএফ। হুমায়ুন কবিরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমে খাতা খুলেছে।
যদিও এবারের নির্বাচনে এসআইআরের কারণে বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি, যা ঘিরে জোর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এছাড়া দেখা গিয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। প্রথম থেকেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোনরকম খামতি রাখা হয়নি।



By










