দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “অপরিকল্পিত এসআইআর” ধরনা মঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, যতদিন ৬০ লক্ষ মানুষ তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন না, ততদিন পথে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস। এখানেই শেষ নয়, তাঁর আরো বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন দুর্ব্যবহার করেছে দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সন্তুষ্ট করতে।
সম্প্রতি, প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের অসমাপ্ত চূড়ান্ত তালিকা। তাতে দেখা গিয়েছে যে বাদ গিয়েছে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম। এখানেই শেষ নয়, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় রয়েছেন ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই তীব্র কটাক্ষ করা হয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের তরফ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে শুক্রবার, ৬ মার্চ, প্রতিবাদ জানাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা ধর্মতলায় ধরনায় বসবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী এদিন ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। মঞ্চ থেকে তিনি গেরুয়া শিবির ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন। এরপর একেক করে অনেকে বক্তব্য রাখেন। নিজের বক্তব্য মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এসআইআরের বিরোধিতা করার পাশাপাশি পথে নেমে প্রতিবাদ করার হুংকারও দেন। এছাড়া কটাক্ষ করেন নির্বাচন কমিশনকেও।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি, সিবিআই, সংবাদমাধ্যম। চ্যালেঞ্জ থাকলো সবার উপর। এটা সেই লড়াই। মানুষ ভোট দেবেন। ৬০ লক্ষ বিচারাধীন। ৫৮ লক্ষের নাম কেটেছে। এক কোটির বেশি মানুষ। ১ কোটি ২৪ লক্ষ। বিজেপি নেতারা জোর গলায় বলেছিল এসআইআর ঘোষণার তিন মাস আগে। কাকতালীয় তো হতে পারে না এটা।”
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, “যতদিন এই ৬০ লক্ষ মানুষ বঞ্চিত থাকবেন, নিজেদের ন্যায্য অধিকার পাবেন না, ততদিন তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। মনে রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটে। কেন বিবেচনাধীন হবে না দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার? আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে কমিশন অমিত শাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য।” প্রসঙ্গত, এদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল জানিয়েছেন যে তিনি জানেন না এই ৬০ লক্ষের কি হবে। এবার দেখার জল কতদূর গড়ায়।



By










