দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: বেলডাঙা অশান্তি কাণ্ডে এনআইএ তদন্ত নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি, কথা প্রাক্তন বহরমপুর সাংসদ, অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, তিলকে তাল করার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চাইলেন যে সামান্য বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও ফের তিনি পুলিশ-প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তোলেন অবরোধ তোলা ও বনধ দীর্ঘ হওয়ার ক্ষেত্রে।
অধীর চৌধুরী বলেন, “এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন বেরিয়ে এসেছে গ্রামের ছেলের মারা যাওয়ায়। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে।” এরপরই এনআইএ তদন্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তিলকে তাল করার চেষ্টা হচ্ছে এনআইএ তদন্তে।” এরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, “যদি সেটা করতে হয়, তাহলে তদন্ত করা উচিত পুলিশের বিরুদ্ধেই।”
তিনি আরো বলেন, “যে ঘটনাটা ঘটেছে, তা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার মতো নয়। তাদের মনে হয়েছে যে মেরে ফেলা হয়েছে গ্রামের ছেলেটাকে, তাই বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল তারা। আমি নিজেও সেখানে গেছিলাম।” এরপরই পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। অধীর চৌধুরী বলেন, “এটা পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা যে বনধ দীর্ঘ হয়েছে। অবরোধ তোলার ক্ষেত্রে কোনও উৎসাহ দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ থেকে। পুলিশ উদাসীন বলেই সাংবাদিক মারধরের ঘটনা ঘটে।”
প্রসঙ্গত, ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। রেল-সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে টায়ার জ্বালানো সবটাই দেখা যায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের বক্তব্য, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। এমনকি জল গড়ায় আদালত পর্যন্তও। হাই কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয় যে দরকার পড়লে কেন্দ্র এনআইএর সাহায্য নিতে পারে তদন্তের ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এটাও জানানো হয় যে রাজ্য চাইলে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারবে কেন্দ্রের থেকে। এরপরই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়। কী তথ্য উঠে আসে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।



By










