দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ পাওয়ার যোগ্য ট্রান্সজেন্ডাররাও! এমনটাই মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এটি তাঁদেরই বেশি পাওয়া উচিত। কিন্তু তাঁরাই এর থেকে বঞ্চিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ট্রান্সজেন্ডাররা এই প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলছেন। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। বলা ভালো, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তাঁদের এই অভিযোগ।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি সরকারের তরফ থেকে লাগাতার দাবি করা হতো যে রাজ্যে তারা ক্ষমতায় এলে নারী কল্যাণ বা নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় সবকিছুর উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজ্যে পালাবদল ঘটার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে বারংবার স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে যে রাজ্যের মহিলারা যাতে সবরকম সুবিধা পান, তার জন্য যা করার দরকার তারা করবে।
এরপরই অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এই প্রকল্পে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণার পর রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে বইছে খুশির হাওয়া। সম্প্রতি, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানোর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিবিটি’র দ্বারা, যা সমগ্র রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হইচই ফেলে দেয়।
কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না ট্রান্সজেন্ডাররা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁদের এই অভিযোগ করতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁরা এই দাবিও করেছেন যে তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় কমেন্টের বন্যা। প্রায় সকলেরই মত, তাঁদেরকেও এই প্রকল্পের যাবতীয় সুবিধা দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলের একাংশেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই ভিডিও। এবার দেখার বিষয় যে সরকার পক্ষের তরফ থেকে এই ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা। আগামীদিনে রাজ্য সরকার তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।



By










