পাহাড়জুড়ে টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) ঐতিহাসিক টয়ট্রেন লোকোমোটিভ শেডে ঘটে গেল এক বড়সড় দুর্ঘটনা। বুধবার সকালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত এই লোকো শেডের পুরনো কাঠ ও লোহার বিম দিয়ে তৈরি ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ভেতরে চারটি ঐতিহ্যবাহী স্টিম ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। ছাদ ভেঙে এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীসহ মোট সাত জন রেলকর্মী ও মেকানিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে আহত হন।
উদ্ধারকাজ ও জয়রাইড স্থগিতের সিদ্ধান্ত
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান অন্য সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
-
উদ্ধার ও চিকিৎসা: খবর পেয়ে দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দার্জিলিং সদর হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।
-
জয়রাইড বন্ধ: দুর্ঘটনাকবলিত শেডের ভেতরে থাকা চারটি স্টিম ইঞ্জিনের পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বুধ ও বৃহস্পতিবার (২ ও ৩ সেপ্টেম্বর) টয়ট্রেনের সমস্ত জনপ্রিয় ‘জয়রাইড’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ডিএইচআর ডিরেক্টরের বক্তব্য
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কাটিহার থেকে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিআরএম (DRM) ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পাশাপাশি পুরো চত্বরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ ও রেলের বক্তব্য |
| দুর্ঘটনার কারণ | ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, টানা বৃষ্টির ফলে পুরনো কাঠ ও পরিকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়াতেই এই ধস। |
| ক্ষতিপূরণ ও অগ্রাধিকার | আহতদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করাই রেলের প্রথম অগ্রাধিকার। |
| ইঞ্জিন পরীক্ষা ও মেরামতি | শেডের ভেতরের স্টিম ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করতে একটি বিশেষ টেকনিক্যাল টিম পরিদর্শন করছে। ঐতিহ্য ও সুরক্ষা বজায় রেখে দ্রুত মেরামতি শুরুর আশ্বাস দিয়েছে রেল। |
শতবর্ষের প্রাচীন এই হেরিটেজ লোকো শেডের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, আপাতত দ্রুত পরিকাঠামো সারাই ও জয়রাইড স্বাভাবিক করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কাছে।



By










