দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কদিন আগে শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয় রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং এর সাথে শেষ হয় তাদের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ঘাসফুল শিবির রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। এই আবহে তাদের তরফ থেকে তৈরি করে ফেলা হলো বিধানসভায় নিজেদের পরিষদীয় দল।
দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক, তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন। অন্যদিকে, চিফ হুইপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভার মেয়র, তথা প্রাক্তন মন্ত্রী, ফিরহাদ হাকিমকে। উপ দলনেতার দায়িত্ব পেয়েছেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। বিধানসভায় তাঁরা সাহায্য করবেন বিরোধী দলনেতাকে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By








