দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই খুলল, প্রায় বছর দুয়েক আগে তোলপাড় ফেলে দেওয়া, আরজি কর কাণ্ডের ফাইল। শুক্রবার এই ব্যাপারে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনজনকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করলেন শিশির পুত্র। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের থেকে পাওয়া রিপোর্টের অনুযায়ী। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নির্যাতিতার মাকে এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তিলোত্তমার মাকে পুলিশ অফিসাররা টাকা দিতে গিয়েছিলেন। আমরা এই তিনজনকে, নির্যাতিতার পরিবারকে এভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে, সাসপেন্ড করছি।” তাঁর সংযোজন, অভিযুক্ত অফিসারদের বক্তব্যও নেওয়া হবে বিভাগীয় তদন্তে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবার চাইলে তাদের বাড়ি গিয়েও বক্তব্য জোগাড় করবেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গভীর তদন্তের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই বের করব পরে পরে। দেখা যাবে কাদের কাদের কথা হয়েছে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে। দেখা হবে তখনকার কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা, সেটা।”
উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তোলপাড় চলে গোটা বাংলায়। পথে নেমে প্রতিবাদ জানান জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশ।
লাগাতার বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। যদিও তারাও পাল্টা দেয় বিরোধীদের। শেষ পর্যন্ত ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজা পান ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের। যদিও অনেকে এখনো মনে করেন যে ঘটনায় হাত রয়েছে হাসপাতালে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষেরও। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয় অভয়ার মা রত্না দেবনাথকে এবং সেখান থেকে তিনি জয়ও পান এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়।



By










