• Home
  • জেলার খবর
  • “মানুষের সাথে অন্যায় করেছেন” ‘নতুন তৃণমূল’কে একহাত নিলেন মহুয়া

“মানুষের সাথে অন্যায় করেছেন” ‘নতুন তৃণমূল’কে একহাত নিলেন মহুয়া

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’কে ‘বিজেমূল’ তকমা দিলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ঘাসফুল শিবিরের এই প্রভাবশালী সাংসদ এও দাবি করেন যে এই ৫৮ জন বিধায়ক মানুষের সাথে অন্যায় করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

বুধবার, ৩ জুন, ছিল বঙ্গ রাজনীতির এক ঐতিহাসিক দিন। রাজনীতির ময়দানে অভিষেক ঘটল ‘নব্য তৃণমূল’এর বা ‘নব তৃণমূল ব্লক’এর। এমনিতেই ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি একাধিক ইস্যুতে উত্তাল, তার উপর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ স্বীকৃতি পাওয়ায়।  তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে এই নয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গঠনকে ঘিরে এই মুহূর্তে ব্যাপক তোলপাড় চলছে সমগ্র বঙ্গ রাজনীতিতে।

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম প্রভাবশালী সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, “তৃণমূল বাংলার যে ৮০টি আসন জিতেছিল, তা সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। কোনও ক্যারিশ্মা ছিল না প্রার্থীদের। তারপর এভাবে দল ভেঙে দেওয়া মানে প্রতারণা করা মানুষের সঙ্গে।” তাঁর দাবি, দল ভেঙে দেওয়ার পেছনে রয়েছে বিদ্রোহীদের ব্যক্তিস্বার্থ।

বিদ্রোহীদের খোঁচা দিয়ে মহুয়া আরো বলেন, “আসলে নেতাদের চর্বি জমে গিয়েছে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে। এখন ভালো লাগছে না বিরোধিতা করতে। কারণ পুলিশ, বিডিও কেউ কথা শুনবে না। সমস্যায় পড়তে হবে। তাই শাসকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে সমস্যা শেষ। বিরোধী থাকলাম নামে, কিন্তু পূর্ণ সমর্থন পাবো শাসকের।” এদিন মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

প্রসঙ্গত, ৫০ জনেরও বেশি বিধায়ক নিয়ে গঠিত ‘নব্য তৃণমূল’ বা ‘নব তৃণমূল ব্লক’। বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া উপ-দলনেতার দায়িত্বে শিউলি সাহা, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহা। যদিও এই সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়ক মিলে নতুন কোনও দল গঠন করেননি। বরং তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। 

পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ব্লকের কোনও সম্পর্ক নেই দূরদূরান্তে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের মান্যতা দেন কিনা এবং কাজ করেন কিনা তাঁদের পরামর্শদাতা হিসেবে। কী হতে চলেছে আগামীদিনে? সেটাই এখন নজরে রাখার মতো বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top