দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: অব্যাহত তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি পর্ব। এক মহিলাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মন্ডল। ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। শুধু তাই নয়, এমনিতেই এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবির, তার উপর এই ঘটনা তাদের অস্বস্তি যে আরো বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
একাধিক ইস্যুতে উত্তাল ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি, যার মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের লাগাতার গ্রেফতারি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বঙ্গ রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবির এটিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে দাবি করে যাচ্ছে এবং তীব্র সমালোচনা করছে গেরুয়া শিবিরের।
এই আবহে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মন্ডল। নির্যাতিতার অভিযোগ, ৯ তারিখ তাঁকে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। যদিও নতুন নয় এই ঘটনা, নির্যাতিতার অভিযোগ, গত ২০২৪ সালেও তাঁকে একইভাবে শ্লীলতাহানি করা হয়। এরপরই তিনি লিখিত অভিযোগ জানান রিজেন্ট পার্ক থানায়। তার ভিত্তিতেই বিশ্বজিৎ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত ধৃত কাউন্সিলার।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ১৮তম বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। এরপরই রাজ্যের নানা প্রান্তে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা, যা ঘিরে বর্তমানে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ঘাসফুল শিবিরের একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে। পথে নেমেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে।
তবে তা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত রয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ কি? এখানেই শেষ নয়, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে সত্যিই কি এবার উঠে যাওয়ার পথে দল। কী হতে চলেছে আগামী দিনগুলিতে? এই জাতীয় একাধিক প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে গোটা রাজ্যে। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










