দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই নানারকমভাবে চাপে পড়ছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বলা ভালো, দিনদিন চাপ বেড়ে চলেছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও হেনস্তার পাশাপাশি ‘চোর’স্লোগান শুনতে হচ্ছে অনেককে। খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই আবহে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তথা বিধান নগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী, সুজিত বসু। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জোর শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠেছে বিধানসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা নিয়ে।
সেই রেশ কাটছে না কাটতেই শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে এই মামলায় হাজিরা দিলেন ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। নির্বাচন পর্ব চলাকালীন একাধিকবার, পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়, তাঁর ডাক পড়েছিল। তবে তিনি তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে অবশেষে শুক্রবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ প্রাক্তন মন্ত্রী এসে উপস্থিত হন সিজিও কমপ্লেক্সে।
ইডি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। রথীন ঘোষ বলেন, “কেন আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, তা আমার জানা নেই। জানতে পারবো ভিতরে গেলে।” সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে এবার রথীন ঘোষের ক্ষেত্রেও সুজিত বসুর মতো ঘটনা ঘটে কিনা। তাঁকেও কি গ্রেপ্তার করা হবে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলে সুজিত বসুকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে, যা ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আদালতে তোলা হলে তাঁকে ২১ তারিখ পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার রথীন ঘোষকেও একই মামলায় তলব করা হলো। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে তাঁর ক্ষেত্রেও জেল হেফাজত লেখা থাকে কিনা। কী হয় আগামীদিনে? তা বলবে সময়।



By










