দেবজিৎ মুখার্জি: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদানের টাকা চুরির ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! কী সেই তথ্য? পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সবচেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চুরি করা হয়েছে গতবছর কুম্ভমেলার সময়ে। এমনিতেই রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান চুরির ঘটনাকে ঘিরে ইউপি রাজনীতিতে হইচই পড়েছে, তার উপর এই মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান চুরির ঘটনা। খবর জনসম্মুখে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল সমগ্র ইউপিতে। ঘটনার তদন্ত নেমে সম্প্রতি বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) তরফ থেকে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয় এবং তার ভিত্তিতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। পরে তাঁরা গ্রেফতারও হন। তদন্ত চলাকালীন পাওয়া যায় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের হাতে কয়েকজন ধৃতের সঙ্গে ট্রাস্টের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্যও মেলে। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে প্রতিনিয়ত।
এই আবহে পুলিশের তরফ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয় যে গতবছর কুম্ভমেলার সময়ে সবচেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চুরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্ত করে জানা গিয়েছে যে সবচেয়ে বেশি টাকা সরিয়েছিলেন দুই আত্মীয় লভকুশ ও অনুকল্প মিশ্র এবং কয়েকটি সম্পত্তিও কিনেছিলেন তা দিয়ে। তাঁদের আর্থিক লেনদেন নিপুণভাবে দেখা হচ্ছে আয়কর দফতরের সহায়তায়। শুধু তাই নয়, সন্দেহ তৈরি হয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ককর্মীর ভূমিকা নিয়েও।
আয়ের চেয়ে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৯ লক্ষ টাকা। অর্থ পাচারের সম্ভাবনা সংক্রান্ত তদন্ত করে দেখতে প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারও। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সকল রাম ভক্তদের।



By














