দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: ব্যারাকপুরের কর্মীসভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যার মধ্যে অন্যতম অনুপ্রবেশ। এই বিষয়ে রাজ্য সরকার আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন যে অনুপ্রবেশ বাড়ছে রাজ্যে এবং তা প্রশ্ন তুলছে সমগ্র দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্য সরকারকে দায়ী করে তিনি আরও দাবি করেন যে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ না করতে পারার মূল কারণ সরকারের জমি না দেওয়া।
অমিত শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ বেড়ে চলায় তা প্রশ্ন তুলছে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। জমি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তাই ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না বর্ডারে।” এর সঙ্গে হাই কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কলকাতা হাই কোর্টও শেষে জমি দিতে বলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দিক বা না দিক এপ্রিলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কাজ শেষ করে দেবে ৪৫ দিনের মধ্যে। এটা আমার প্রতিশ্রুতি বাংলার নাগরিকদের কাছে।”
বলে রাখা ভালো, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। যদিও রাজ্য সরকার সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লাগাতার এবং পাল্টা অভিযোগের আঙুল তোলে গেরুয়া শিবিরের দিকে। এই ব্যাপারে ঘাসফুল শিবির নিজের অবস্থানে জানিয়েছে যে বর্ডার সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সব বিজেপির অধীনে এবং তাদেরই সেটা দেখার দায়িত্ব।
এক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্র সরকার যে অর্থ দিয়েছে, এমন সীমান্তবর্তী জমি শীঘ্র হস্তান্তর করতে হবে বিএসএফকে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। ভোটের আগে বা ভোট এই বিষয়টির কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



By









