দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: “অপরাধী কাউকে ছাড়া হবে না” বারুইপুরে এসপি অফিসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জানালেন সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, ঘটনায় যুক্ত সকলেই শাস্তি পাবেন। শুধু তাই নয়, তিনি এই দাবিও করেন যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সাংবাদিকদের রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বৈঠকে উপস্থিত সকলের সঙ্গে এবং খোঁজ নিয়েছেন ঘটনার প্রতিটি দিক সম্পর্কে। তিনি বিস্তারিত তথ্য তদন্তের অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও জোগাড় করেন।” তাঁর সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন একজন নিরপরাধও শাস্তি পাবে না। তবে ছাড়া হবে না অপরাধী কাউকে। মেয়েটি তো চলেই গেছে। সে আর ফিরে আসবে না। তবে এবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে, যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার থেকে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বারুইপুর থানা এলাকায়। এরপর থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। অভিযানে তাদের সঙ্গ দেয় এসটিএফের বিশেষ দলও। ঘটনার তদন্ত করতে পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। এছাড়া একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনায়।
রবিবার দুজনকে গ্রেপ্তার পর গভীর রাতে আটক করা হয় তিনজনকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য হাতে লাগে তদন্তকারীদের। একজনের বক্তব্য, মৃত নাবালিকাকে অপহরণ করে পরিবারের থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তদন্ত করে অন্য তথ্য হাতে লেগেছে। জানা গিয়েছে, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ সংক্রান্ত কোনও ফোন বা বার্তা আসেনি এবং সেই সন্দেহ থেকে ধৃতদের দেওয়া বয়ানের সত্যতা নিপুণভাবে দেখছেন তদন্তকারীরা। সোমবার সকল অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। সেদিন দুপুরেই গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত বলে সিটের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারা আনন্দ সর্দারকে। এদিকে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, যৌন নির্যাতনের পর মাথায় আঘাত করা হয়েছে ভারী কিছু দিয়ে। প্রসঙ্গত, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। অপরাধীদের কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে। পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।



By










