দেবজিৎ মুখার্জি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বঙ্গ বিজেপিকে বড় নির্দেশ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের। প্রথম বৈঠকেই তিনি দলের সাংসদদের দিয়ে বসলেন কড়া বার্তা। কী বার্তা দিয়েছেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, শুধু মঞ্চে থাকলে হবে না নেতাদের, পথেও নামতে হবে। এখানেই শেষ নয়, তাঁর আরো নির্দেশ দলের নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষের মাঝে যেতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সরকারি বাসভবনে বিজেপি সাংসদদের নিয়ে নীতিন নবীন প্রায় আড়াই ঘন্টা মতো বৈঠক করেন। সেখানে দলের কাজকর্মের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি রণকৌশল কি হবে, তাও ঠিক করে দেন। শুধু তাই নয়, কিভাবে মানুষের মাঝে পৌঁছানো যায়, সেই রাস্তাও বলে দেন গেরুয়া শিবিরের নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি।
দলীয় সাংসদদের নীতিন নবীনের নির্দেশ, আপাতত বড় মঞ্চ বা রাজনৈতিক সভার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত রাস্তায় নেমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উপর। সাংসদদের তিনি জানান পাড়ায় পাড়ায় কর্মসূচি নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এবং তাঁদের সমস্যা বা ক্ষোভ, যাবতীয় সবকিছু শুনতে হবে, তাহলেই সম্ভব হবে লড়াই জোরদার করা।
এছাড়াও কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের পাল্টা দিতে হলে যাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাগুলি পাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে। সুতরাং নীতিন নবীনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে এবার বিজেপি কোনও খামতি রাখতে চায় না আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, এবার যে তাঁরা সবটা দিয়ে লড়াই করবে, তা না বললেও চলে।
প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে গিয়েছিল ৭৭টি আসন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যায় ২১৬টি। পরে গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা দলবদল করেন এবং ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরেন, যার জেরে কমে যায় সেই সংখ্যা। এবার দেখার বিষয় যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কেমন ফল করে বিজেপি। তাদের আসনের সংখ্যা বাড়বে না কমবে? এটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।



By









