দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর চরম দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে ও বাইরে, দুদিকেই চাপে পড়ে চলেছে তারা। গ্রেফতার হয়ে চলেছে একের পর এক নেতা। এই আবহে সমস্যা আরো দ্বিগুণ হল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানায়, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে, বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে।
এদিন সকালে এনআইএর এক বিশেষ দল পৌঁছায় ভাঙড়ের জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কিন্তু জানা গিয়েছে, শওকত মোল্লা তার আগেই বেরিয়ে যান বাড়ি ছেড়ে। পরে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন আধিকারিকরা এবং শুরু হয় তল্লাশি। পাশাপাশি, অভিযান চালানো হয় দলীয় কার্যালয়েও। আরেকটি দল তল্লাশি শুরু করে মৌখালিতে অবস্থিত ইমরান মোল্লার ক্যাফেতেও। এছাড়া হানা দেওয়া হয় একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতেও।
প্রসঙ্গত, ভোটের আগে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায়, যাতে মৃত্যু হয় একজনের এবং আহত হন একাধিক ব্যক্তি। তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিস্ফোরণের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে এনআইএ। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামকে। তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় বৃহস্পতিবার। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে ভোটের আগে এলাকায় বিশাল সংখ্যার বিস্ফোরক মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতেই একসাথে অভিযান চালানো হচ্ছে ভাঙড়ের একাধিক জায়গায়। এবার দেখার বিষয় যে ঘটনার জল কতদূর গড়ায়। তদন্ত করে বিস্ফোরক কিছু বেরিয়ে আসে কিনা, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকল রাজ্যবাসীর।



By










