দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি উত্তাল তিলজলায় চলতি বুলডোজার অভিযান নিয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। শাসক থেকে বিরোধী, দুই শিবিরের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে নানা মহল থেকে। এই আবহে বৃহস্পতিবার তিলজলায় যান ভাঙ্গড়ের বিধায়ক, তথা আইএসএফ নেতা, নওশাদ সিদ্দিকী এবং বিষয়টি নিয়ে সরব হন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন নওশাদ। এলাকাবাসীর যাবতীয় অভিযোগ তিনি শোনেন এবং প্রশ্ন তোলেন প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। ভাঙ্গড়ের বিধায়কের অভিযোগ, “মানুষের কথা শোনা উচিত ছিল তাঁদের ঘর ভাঙ্গার আগে।” এর সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এভাবে দম্ভ দেখিয়ে চলতে পারে না প্রশাসন। আন্দোলন চলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে।”
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিলজলা থানার সামনে বুধবার বিকেলে শুরু হয় ভাঙার কাজ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও পৌরসভার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে। তবে এরপর থেকে স্থানীয়দের তরফ থেকে অভিযোগ ওঠে যে নিয়ম অনুসারে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। যথেষ্ট সময় না দিয়ে এই বুলডোজার অভিযান চালিয়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের মাথার উপর ছাদ। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয় বাম ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও।
যদিও রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও হালকা মনোভাব দেখানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে আইন ভাঙলে কোনও ছাড় নেই। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই শহরের একাধিক এলাকায় চালানো হচ্ছে বেআইনি নির্মাণ বিরোধী অভিযান। এবার দেখার বিষয় যে জল কতদূর গড়ায়। কী হতে চলেছে আগামীদিনে? তা বলবে সময়।


By










