দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: যেই সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই অশান্তি লেগে থাকত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেসের, তাঁর পদত্যাগেই চমকে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে, এই খবর জনসম্মুখে আসতে, তিনি নিজের অবস্থান জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি স্তম্ভিত। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এটাও দাবি করেন যে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করে নতুন রাজ্যপাল বেছে নেওয়া আঘাত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয়।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই মুহূর্তে জোর প্রস্তুতি চলছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। বলা যায়, এই মুহূর্তে ভোটের হাওয়া বইছে গোটা বাংলায়। এরই মাঝে এক চাঞ্চল্য কান্ড ঘটলো বঙ্গ রাজনীতিতে। রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় সেই দায়িত্ব সামলাবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি। তিনি প্রাক্তন কর্তা সিবিআই ও আইবির।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে তিনি লেখেন, “আমি হতবাক এবং চরম উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে পদত্যাগের কারণ জানিনা কিন্তু অবাক হবো না যদি উনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন ভোটের আগে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য।” এরপরই তিনি আরএন রবিকে নতুন রাজ্যপাল করার বিষয়টি তুলে ধরেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “নিয়ম অনুযায়ী আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুন্ন করে এবং আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তির উপর।”
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে কেরলের বাসিন্দা, তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার, সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হন। প্রথমদিকে শাসক শিবিরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেও পরে আস্তে আস্তে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। নানা বিষয়ে একে অপরকে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেস ও সিভি আনন্দ বোস।
তবে বছরখানেক আগে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন যখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন রাজভবনের এক মহিলা কর্মী। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে এবার তাঁর আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চমকে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি সহ সকল রাজ্যবাসীকে। এবার দেখার বিষয় যে এর নেপথ্যে আসল কারণ কি। সত্যিই কি এই পদত্যাগ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নাকি কোনও চাপ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।



By










