• Home
  • জেলার খবর
  • নজির গড়লেন মমতা! প্রশ্ন করলেন সুপ্রিম কোর্টে

নজির গড়লেন মমতা! প্রশ্ন করলেন সুপ্রিম কোর্টে

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: বুধবার এক আলাদা নজির গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এসআইআর সংক্রান্ত যেই মামলা তিনি দায়ের করেছিলেন, তাতে তিনি নিজে প্রশ্ন করলেন সুপ্রিম কোর্টে। যদিও আইনজীবী হিসেবে নন, একজন নাগরিক হিসেবে। স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন। পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে তিনি যাবতীয় পরিস্থিতি তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতি ও তাঁর বেঞ্চ কিছুক্ষেত্রে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে সহমতও পোষণ করেন।

এদিন মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসেছিলেন আইনজীবীদের পাশে একেবারে সামনে। তাঁর হয়ে প্রশ্ন করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান। তখন পাঁচ মিনিট চেয়ে নেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বিচারপতিদের তরফ থেকে অনুমতিও মেলে এবং এরপরই তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। শীর্ষ আদালতকে আপত্তিগুলি তুলে ধরেন এসআইআরকে কেন্দ্র করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বাংলার মানুষ হয়ে বলছি। নাম বাতিলের কাজ চলছে এসআইআরের মাধ্যমে। কোথাও কোনও মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং অন্য কোথাও চলে গেছে, তার নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কেউ হয়তো অন্য কোথাও ফ্ল্যাট কিনে উঠেছেন, তাঁর নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই যেন নাম না বাদ পড়ে কোনও বৈধ ভোটারের। এর জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আমাদের আইনজীবীরা। নির্বাচন কমিশনকে আমি ছটি চিঠি লিখেছি এই ব্যাপারে, কিন্তু উত্তর পাইনি। সাধারণ মানুষ আমি, কম গুরুত্বপূর্ণ হয়তো। কী হচ্ছে, বুঝতে পারছি না আমরা কিছু। কাঁদছি সুবিচারের জন্য।”

তিনি আরো বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলে দেওয়া সত্ত্বেও আধার কার্ডকে গ্রহণ করা হচ্ছে না নথি হিসেবে। এই কাজ তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে নির্বাচনের আগে। নাম বাদ পড়ছে, কিন্তু যুক্ত হচ্ছে না, তাও তো প্রয়োজন। মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে। তারা নাম মুছে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশনে পরিণত হয়েছে। যাবতীয় নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া হচ্ছে। ঠিক বলছেন না বিপক্ষের আইনজীবী। আমরা আধিকারিক দিয়েছি। বাদ গেছে ৫৯ লক্ষ নাম। কোনও সুযোগ মেলেনি সেলফ ডিফেন্সের। মাইক্রো অবজারভার শুধু বাংলার জন্য নিয়ম ভেঙ্গে। মাইক্রো অবজারভারদের তুলে নিন, আমার শেষ আবেদন। বাঁচান গণতন্ত্রকে।”

প্রধান বিচারপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনার পর বলেন, “দেখছি, তেমন হলে সময় বাড়ানো হবে। ফের সোমবার শুনানি। যেই কারণে তিনি এসেছিলেন, বাংলার মানুষদের হয়ে, অনেকটাই বলেছেন। সেদিন যদি আসেন, পরের দিন বাকিটা বলতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, উনি বলতে পারলেন বাংলার মানুষের হয়ে।” শুনানি শেষে দু’পক্ষকেই নোটিস দেওয়া হয়। কমিশনের তরফ থেকে কি কি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য কত অফিসার দিতে পারবে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় নবান্নকে। এছাড়া আদালতের তরফ থেকে এটাও জানানো হয়েছে যে মাইক্রো অবজারভারের দরকার নেই যদি রাজ্য সহযোগিতা করে এবং কমিশনকে সেন্সেটিভ হতে বলে। এবার দেখার বিষয় যে সোমবার কি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top