দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউস ও তার চারপাশের চত্বর সহ মধ্য কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি হতে চলেছে। এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ, তথা বিশিষ্ট আইনজীবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, দল নিশ্চিতভাবে আদালত যাচ্ছে এবং যা মামলা করার করবেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “১৬৩ ধারা মধ্য কলকাতাজুড়ে জারি করা হয়েছে। কোনও মিটিং, মিছিল করা যাবে না। ৫ জন কিংবা তার বেশি থাকতে পারবে না। এটা পুরোপুরি অবৈধ। শুভেন্দু অধিকারী ভয় পাচ্ছেন রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে। আইন ভাঙার জন্যই হয় আইন ভাঙা আন্দোলন। এই যে নির্দেশ বেরিয়েছে, আমরা এর বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে আগামিদিনে আদালতে যাব। যা মামলা করার করব। এটা দু’জায়গাতেই লড়ব। রাজনৈতিকভাবে এবং আইনগতভাবে। আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে বিচারব্যবস্থার উপর। এভাবে বন্ধ করা যায় না মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে।”
প্রসঙ্গত, অশান্তি ঠেকাতে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে প্রায় দুই মাস তিলোত্তমার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা। কমিশনার অজয় কুমার নন্দা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ অগাস্ট অবধি বিএনএসের ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকবে মধ্য কলকাতার নানা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, যার মধ্যে রয়েছে বউবাজার, হেয়ার স্ট্রিট, ট্র্যাফিক হেডকোয়ার্টার্স গার্ড এলাকা, কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল সহ আরও অনেক। এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে উল্লেখিত এলাকাগুলিতে কোনওরকম বেআইনি জমায়েত, ধরনা, মিছিল, ইত্যাদি করা হলে আইনি পথে হাঁটবে পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে পাঁচজন বা তার বেশি লোকজনের বেআইনি জমায়েতকে। জমায়েত করা যাবে না লাঠি বা অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে। এবার এর বিরুদ্ধে আদালতে যেতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আদালতে গিয়ে তারা কোনও লাভ করতে পারে কিনা। কী হতে চলেছে আগামীদিনে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



By










