বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর:
টানা বৃষ্টি এবং ওপর থেকে নেমে আসা জলে ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতির প্রতিদিন অবনতি ঘটছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, পিংলা এবং ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সম্পূর্ণ জলমগ্ন। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধের মুখে পঠনপাঠন ও স্বাভাবিক জনজীবন। কিন্তু এই বানভাসি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে করুণ ছবি ফুটে উঠেছে অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের ক্ষেত্রে—শুকনো শ্মশানের অভাবে ডিঙি নৌকায় করে মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে স্বজনদের।
নৌকায় শেষযাত্রা: শুকচন্দ্রপুরের করুণ দৃশ্য
ঘাটাল পুরসভার শুকচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ায় তৈরি হয়েছে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি:
-
দুই বৃদ্ধের প্রয়াণ: দীর্ঘ দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর মৃত্যু হয় স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই শাসমল ও রবীন্দ্রনাথ শাসমলের।
-
জলে ডোবা শ্মশান: গ্রামের নিচু এলাকার শ্মশানগুলি হাঁটু থেকে কোমর জলে তলিয়ে যাওয়ায় দেহ কোথায় দাহ করা হবে, তা নিয়ে বিপাকে পড়েন পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
-
ডিঙি নৌকায় সৎকার: শেষ পর্যন্ত কাঠের গুঁড়ি, দাহকার্যের সামগ্রী ও দুই বৃদ্ধের দেহ ডিঙি নৌকায় চাপিয়ে জলপথ পেরিয়ে দূরবর্তী রঘুনাথচক শ্মশানে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। সেখানে কোনোরকমে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।
ইলেকট্রিক চুল্লি ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি
ঘাটালের এই চিরন্তন জলযন্ত্রণা এবং উন্নত শ্মশানের অভাব নিয়ে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ:
| রাজনৈতিক দল / প্রতিনিধি | দাবি ও প্রতিক্রিয়া |
| শীতল কপাট (বিজেপি বিধায়ক) | ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি শাসকদলকে তোপ দেগে বলেন— “দেড় দশক রাজত্ব করেও তৃণমূল সরকার ঘাটালবাসীকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। বন্যাপ্রবণ এই এলাকায় একটি ইলেকট্রিক চুল্লি অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা তারা করেনি।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় স্তরে দরবার করা হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে। |
| স্থানীয় প্রশাসন ও শাসকদলের অবস্থান | প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ পৌঁছানো এবং বানের জল সরলে দ্রুত বিকল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। |
বন্যা আর জলজটের জেরে জীবনযাত্রার পাশাপাশি শেষযাত্রাতেও ঘাটালবাসীর এই ভোগান্তি ভাবিয়ে তুলছে সর্বস্তরের মানুষকে।



By










