দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু হওয়া বুলডোজার অভিযানকে ঘিরে উত্তাল ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি। নানা মহল থেকে এই অভিযানকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে পৌঁছে যায়। এই আবহে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর নির্দেশ, আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে বহুতল ভাঙার ব্যাপারে। তবে ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা অংশ বিপজ্জনক হলে, পুরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে।
শুক্রবার হাই কোর্টে শুনানি হয় তিলজলার বিতর্কিত বহুতল ভাঙা নিয়ে। মালিকপক্ষের দাবি, ভাঙার কাজ পুর আইন অনুসারে হয়নি। তাদের বক্তব্য, কোনও ট্যানারি চলছিল না সংশ্লিষ্ট বহুতলে এবং যথাযথ নোটিস ছাড়াই শুরু হয়েছে ভাঙার কাজ। বাড়িমালিকের আইনজীবীর অভিযোগ, “বাড়ি ভাঙার পরে থানায় ডেকে জোর করে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে যে নোটিস আগেই দেওয়া হয়েছিল।” তাঁদের আরও দাবি, ভাঙার কাজ কোন দপ্তর করছে, তাও জানানো হয়নি। পাশাপাশি তাঁদের আবেদন, বহুতলটি আর যেন ভাঙা না হয় এবং ফের চালু করা হোক জল ও বিদ্যুতের সংযোগ। তবে রাজ্যের পাল্টা দাবি, নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও বাড়ির মালিক গ্রহন না করায়, তা আটকিয়ে দেওয়া হয় দেওয়ালে।
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বক্তব্য, “অবৈধ নির্মাণ মাশরুমের মতো হচ্ছে। বিপর্যয় ডেকে আনবে এটা।” কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মালিকপক্ষ এখনও অবধি দেখাতে পারেনি বহুতলের কোনও অনুমোদিত স্যাংশন প্ল্যান বা সেখানে কেমন ব্যবসা চলত, তার বৈধ নথি। কিন্তু কোর্টের তরফ থেকে এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে ভবনের বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অংশ নিয়ে দরকারি পদক্ষেপ নিতে পারবে পুরসভা। তবে সবটা আইন অনুসারে করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২২ জুন। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়। জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, সেদিকে তাকিয়ে সকল রাজ্যবাসী।



By










