দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বাংলার মসনদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক ঝড় ধেয়ে আসছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। কোথাও দলের নেতাদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা, কোথাও আবার আক্রান্ত হচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। শুধু তাই নয়, দলের বহু নেতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা ঘাসফুল শিবির।
এই আবহে চাপ দ্বিগুণ হলো তৃণমূল কংগ্রেসের। কী ঘটেছে এবার? এফআইআর দায়ের হলো দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তরফ থেকে এফআইআর রুজু করা হলো বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। ভোটের ফলপ্রকাশের পর ৫ই মে তিনি বাগুইআটির থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির বিরুদ্ধে ভোট চলাকালীন একাধিক জায়গায় উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার। তিনি অভিযোগ জানান এমন একাধিক জায়গায় অভিষেকের বক্তব্যের লিঙ্ক তুলে ধরে।
অভিযোগকারী সমাজকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তরফ থেকে এফআইআর করা হয় ৫টি ধারায়, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি ভারতীয় সংহিতা আইনের ধারা। এছাড়াও প্রয়োগ করা হয়েছে রিপ্রেজেটিয়ন অফ পাবলিক অ্যাক্টের ২টি ধারা। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারাও। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই জোর শোরগোল পড়েছে চারিদিকে। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে এবার কী হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছেন। এবার দেখার বিষয় যে জল কতদূর গড়ায়।



By










