দেবজিৎ মুখার্জি: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর শোক যে এখনো মেটেনি, তা না বললেও চলে। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। তবে এবার এই ব্যাপারে অ্যাকশন মোডে এলো কেন্দ্র সরকার। কী করলো তারা? চার শতাধিক বেশি আনকন্ট্রোলেবল বিমানস্ট্রিপগুলি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হল তাদের তরফ থেকে। সরকারের পরিকল্পনা, এগুলি ডিজিসিএ এবং রাজ্য সরকারের অবজারভেশনে থাকবে।
অজিত পাওয়ের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র চায় সকল বিমানবন্দরগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বারামতির মতো এমন অজস্র ছোট বিমানবন্দর রয়েছে, যেগুলি রাজ্য সরকার, বিমান ট্রেনিং সংস্থা ও বেসরকারি অপারেটরদের অধীনে, যার ফলে প্রশ্ন ওঠে বন্দরগুলির সিকিউরিটি নিয়ে। অনেক সময়ে প্লেন চলাচলের বিষয়ে যথেষ্ট সুবিধা পাওয়া যায় না এই জাতীয় রানওয়েতে। কেন্দ্রের পরিকল্পনা, এই সমস্ত রানওয়ের ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কমিউনিকেশন এবং ফায়ারফাইটিং প্রস্তুতি পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি এও পরীক্ষা করে দেখা হবে যে কিভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করেন বিমান স্ট্রিপের পরিচালনকারীরা।
রিপোর্টে অনুযায়ী, এই জাতীয় প্রায় ৪০০টি বিমানঘাঁটি ডিজিসিএর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ব্যবহার করা হয় চার্টার ফ্লাইট, রাজনৈতিক দল ও ফ্লাইং স্কুলগুলির তরফ থেকে। এতে যেমন সুবিধার অভাব রয়েছে, তেমনি বিমান চলাচলের জন্যও রিস্কি। কেন্দ্র এবার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চায় এবং সেক্ষেত্রে এই ঘাঁটিগুলির দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ডিজিসিএ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি একটি সভায় যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বারামতির দিকে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার নিজস্ব বিমান করে। গন্তব্যস্থানে পৌঁছে ঘটে দুর্ঘটনা। এমারজেন্সি ল্যান্ডিং করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। গুরুতর আহত অজিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে ঘিরে নেমে আসে শোকের ছায়া। দেশের সকল রাজনীতিবিদ বেশ দুঃখ পেয়েছেন এই ঘটনায়। তবে অনেকে আবার এর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখছিলেন। যদিও কাকা শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন যে এটি একটি দুর্ঘটনা এবং এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে এই সংক্রান্ত বিস্ফোরক কিছু বেরিয়ে আসে কিনা।



By












