দেবজিৎ মুখার্জি: সম্প্রতি, শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১০০রও কম আসন পেয়েছে তারা। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে জয় নিজেদের নামে করেছে গেরুয়া শিবির। তবে এর পেছনে রয়েছে কি কোনও আইনি জটিলতা? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে এই প্রশ্নই তোলা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষিয়ান সাংসদ, তথা বিশিষ্ট আইনজীবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের এখনও ৩৫ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে, যা প্রভাবিত করেছে ভোটের ফলাফলকে সরাসরি।
এদিন মামলা শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। সেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এক বিস্ফোরক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্য, এবারের ভোটে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০৪ ভোট আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৪ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৩২ লক্ষ। বর্ষিয়ান সাংসদের যুক্তি, যেখানে ৩৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা, সেখানে চূড়ান্ত মানা কঠিন এই ফলাফলকে।
তিনি এও দাবি করেন যে জয়-পরাজয়ের মার্জিনের চেয়ে বেশি বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা, এমন অন্তত ৩১টি আসন রয়েছে। একটি আসনের উদাহরণ তুলে তাঁর বক্তব্য, “৮৭২ ভোটে হেরেছেন আমাদের প্রার্থী। অথচ সেখানে বাদ দেওয়া হয়েছে বা ঝুলে রয়েছে ৫ হাজার ভোটারের নাম।” এই ভিত্তিতে তিনি অনুমতি চান ‘ইলেকশন পিটিশন’ ফাইল করার। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর তরফ থেকে তাঁকে আলাদা করে পরামর্শ দেওয়া হয় ‘ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন’ ফাইল করার।
শুনানিতে প্রসঙ্গ ওঠে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ইস্তফারও। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের তরফ থেকে জানানো হয় যে কোর্টের কিছু করার থাকে না কেউ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে। কিন্তু ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে চার বছর লেগে যেতে পারে পুরো কাজ শেষ হতে এবং এর জেরে প্রভাব পড়বে আগামী বছর পুরসভা ও তার পরের পঞ্চায়েত ভোটেও। সমগ্র বিষয়টি নিপুনভাবে দেখার পর শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের তরফ থেকে জানানো হয় যে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্ট দরকার এই শুনানি কদিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বুঝতে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










