দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল করল সিপিআই। ঢাকুরিয়ায় মোমবাতি মিছিল হয় কলকাতা পুরসভার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি মধুছন্দা দেবের নেতৃত্বে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকুরিয়া আঞ্চলিক পরিষদের সম্পাদক গোপাল চক্রবর্তী। বেহালাতেও মোমবাতি মিছিল হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেহালা আঞ্চলিক পরিষদের সম্পাদক বিমান গুহ ঠাকুরতা, মহিলা নেত্রী কণিকা মৃধা প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার থেকে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বারুইপুর থানা এলাকায়। এরপর থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। অভিযানে তাদের সঙ্গ দেয় এসটিএফের বিশেষ দলও। ঘটনার তদন্ত করতে পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। এছাড়া একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনায়।
রবিবার দুজনকে গ্রেপ্তার পর গভীর রাতে আটক করা হয় তিনজনকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য হাতে লাগে তদন্তকারীদের। একজনের বক্তব্য, মৃত নাবালিকাকে অপহরণ করে পরিবারের থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তদন্ত করে অন্য তথ্য হাতে লেগেছে। জানা গিয়েছে, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ সংক্রান্ত কোনও ফোন বা বার্তা আসেনি এবং সেই সন্দেহ থেকে ধৃতদের দেওয়া বয়ানের সত্যতা নিপুণভাবে দেখছেন তদন্তকারীরা। সোমবার সকল অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। সেদিন দুপুরেই গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত বলে সিটের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারা আনন্দ সর্দারকে।
এদিকে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, যৌন নির্যাতনের পর মাথায় আঘাত করা হয়েছে ভারী কিছু দিয়ে। প্রসঙ্গত, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। অপরাধীদের কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে। পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বারুইপুরে গিয়ে এসপি অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন যে ঘটনায় যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



By










