দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে তোলপাড়। রাজ্যজুড়ে প্রচার করে বেড়াচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বাম, কংগ্রেসও নিজেদের মতো করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মসনদকে পাখিরচোখ করে সকলেই নিজেদের সবটা দিয়ে চলেছে। লক্ষ্য একটাই এবং সেটা হলো বাংলায় ক্ষমতা।
এই আবহে যুদ্ধের ময়দানের চেহারা নিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর চত্বর। কী ঘটেছে সেখানে? ফর্ম–৬ ইস্যুকে ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সেই এলাকা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর চরম বিক্ষোভ দেখানো হয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও শাসকদলপন্থী বিএলওদের তরফ থেকে। এই বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোসেইটা এলাকায়।
বিক্ষোভকারী তৃণমূল সমর্থকদের অভিযোগ, বাংলার ভোটার তালিকায় অন্য রাজ্যের ভোটারদের যুক্ত করা হচ্ছে ফর্ম–৬ জমা দেওয়ার দ্বারা। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম। তাঁদের অভিযোগ, এক ব্যক্তি অজস্র ফর্ম–৬ জমা দিতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর এবং তাঁকেই ধরে ফেলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। সেই ব্যক্তি নাকি স্বীকার করেছেন প্রায় ৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার কথা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই চত্বরে শীঘ্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। শাসকদলের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরাও।
এবার দেখার বিষয় যে এই ব্যাপারে জল কতদূর গড়ায়। আগামীদিনে আর কি হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকল রাজ্যবাসীর। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত বাংলা, তার উপর এমনটা হওয়ায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কোনভাবেই ছেড়ে কথা বলবে না তৃণমূল কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে পরিস্থিতি কেমন হয়। ভোটের আগে এই অধ্যায়ে নতুনকিছু দেখা যায় কিনা, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।



By









