দেবজিৎ মুখার্জি: শুক্রবার জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুক্তি পাওয়া। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একা নন, রেহাই পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াও। রেহাই পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কেজরি। তা নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
তবে এবার মদ কেলেঙ্কারি মামলায় বিপাকে খোদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই! রাউজ এভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং পরামর্শ দেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই কারোর বিরুদ্ধেই যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেনি। মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ না জোগাড় করতে পারার পাশাপাশি শুধু ধারণার উপর নির্ভর করে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছিল বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। জিতেন্দ্র সিং বলেন, “রাজসাক্ষীর বয়ানের উপর নির্ভর করে মামলার অধিকাংশই সাজানো হয়েছে, যা করা যায় না। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত কুলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে।”
প্রসঙ্গত, গতবছর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, আম আদমি পার্টি রাজ্যে যে আবগারি নীতি চালু করেছিল, তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল রাজ্যের কোষাগারে। সরকারের অন্তত ২০২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে মূল অভিযুক্ত বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আপ সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং মোট ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এর জেরে জেলে যেতে হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। পাশাপাশি কারাগারে যেতে হয়েছিল মণীশ সিসোদিয়া সহ আরো অনেককে। কিন্তু ইডি বা সিবিআই, দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি এবং এর জেরে একেক করে সকলেই জেলমুক্ত হন। শুক্রবার রাউস এভিনিউ কোর্ট পুরোপুরি কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে রেহাই দেয় মামলা থেকে।
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া মামলা থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের চোখে জল দেখা যায়। সেই অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের নিজের অবস্থান জানান। আপ সুপ্রিমো বলেন, “আমি একজন কট্টর সৎ মানুষ। আজ আদালতের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হলো যে আমি বা মণীশ সিসোদিয়া অসৎ নই।” তাঁর সংযোজন, “স্বাধীন ভারতবর্ষের সবথেকে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। কিন্তু জয় হল সত্যের এতদিন পর।” এবার দেখার বিষয় যে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় কেজরিওয়াল সহ গোটা আম আদমি পার্টির। কী পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে ময়দানে নামবে, সেটাই এখন দেখার। স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল বলেছেন, “ক্ষমতার লোভে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছিল বিজেপি।”



By











