দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোমবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে এদিন সকালে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ গেরুয়া শিবিরের এক প্রতিনিধি দল। অগ্নিমিত্রা পালের তরফ থেকে জানানো হয় যে ঘটনায় যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না এবং সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “আশ্বস্ত করেছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে।” তাঁর সংযোজন, “নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, সরকারের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট। এমনকী আস্থা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উপরেও।” দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনা সহ মহিলাদের উপর অত্যাচার ঘটলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এমনকী যদিও দেখা যায়, গাফিলতি রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের, সেক্ষেত্রে রেহাই নয় কাউকে। মুখ্যমন্ত্রী তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার থেকে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বারুইপুর থানা এলাকায়। এরপর থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। অভিযানে তাদের সঙ্গ দেয় এসটিএফের বিশেষ দলও। ঘটনার তদন্ত করতে পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। এছাড়া একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনায়।
রবিবার দুজনকে গ্রেপ্তার পর গভীর রাতে আটক করা হয় তিনজনকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য হাতে লাগে তদন্তকারীদের। একজনের বক্তব্য, মৃত নাবালিকাকে অপহরণ করে পরিবারের থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তদন্ত করে অন্য তথ্য হাতে লেগেছে। জানা গিয়েছে, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ সংক্রান্ত কোনও ফোন বা বার্তা আসেনি এবং সেই সন্দেহ থেকে ধৃতদের দেওয়া বয়ানের সত্যতা নিপুণভাবে দেখছেন তদন্তকারীরা। সোমবার সকল অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। সেদিন দুপুরেই গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত বলে সিটের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারা আনন্দ সর্দারকে। এদিকে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, যৌন নির্যাতনের পর মাথায় আঘাত করা হয়েছে ভারী কিছু দিয়ে। প্রসঙ্গত, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। অপরাধীদের কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে। পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।



By










