দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই মুহূর্তে জোর প্রস্তুতি চলছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। বলা যায়, এই মুহূর্তে ভোটের হাওয়া বইছে গোটা বাংলায়। এরই মাঝে এক চাঞ্চল্য কান্ড ঘটলো বঙ্গ রাজনীতিতে। কী ঘটেছে? রাজ্যপাল পদ থেকে ইত্তাফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে একাধিক প্রশ্ন উত্তর শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর জায়গায় সেই দায়িত্ব সামলাবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি। তিনি প্রাক্তন কর্তা সিবিআই ও আইবির।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন হঠাৎ এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন অনেকেই তা বিশ্বাস করতে পারেননি। কিন্তু পরে জানা যায় তা পুরোপুরি সত্যি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গিয়েছে যে এখন তিনি রয়েছেন দিল্লিতে এবং সেখানে জমা দিয়েছেন ইস্তফাপত্র। তবে কি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁর তরফ থেকে, সেই ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে বেশ সন্দেহ তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে কারণ তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত, কিন্তু প্রায় পৌনে দুই বছর আগে তিনি সরে দাঁড়ান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে এই সিদ্ধান্ত সিভি আনন্দ বোসের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়। বরং তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে ইস্তাফা দেওয়ার জন্য। যদিও বিষয়টি কতটা সত্যি, তা এখনো পর্যন্ত সকলের কাছেই অজানা। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকছে যে তিনি সত্যিই নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাকি কারোর তরফ থেকে কোনও চাপে পড়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে কেরলের বাসিন্দা, তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার, সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হন। প্রথমদিকে শাসক শিবিরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেও পরে আস্তে আস্তে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। নানা বিষয়ে একে অপরকে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেস ও সিভি আনন্দ বোস। তবে বছরখানেক আগে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন যখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন রাজভবনের এক মহিলা কর্মী। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে এবার তাঁর আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চমকে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি সহ সকল রাজ্যবাসীকে। এবার দেখার বিষয় যে এর নেপথ্যে আসল কারণ কি। সত্যিই কি এই পদত্যাগ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নাকি কোনও চাপ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।



By










