দেবজিৎ মুখার্জি: বেলডাঙায় অশান্তি ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে রাজ্যের মামলায় দেওয়া হল স্থগিতাদেশ। কলকাতা হাই কোর্টে ফিরিয়ে দেওয়া হয় মামলা। যদিও এনআইএকে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানাতে হবে যে তদন্তের মাঝে ইউএপিএ প্রয়োগ যুক্তিসঙ্গত কিনা। পাশাপাশি, নির্দেশ দেওয়া হয় যে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রিপোর্ট পড়ে রাজ্যের আবেদন শুনবে।
ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। রেল-সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে টায়ার জ্বালানো সবটাই দেখা যায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের বক্তব্য, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। এমনকি জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্তও। সেখানে জানানো হয় যে দরকার পড়লে কেন্দ্র এনআইএর সাহায্য নিতে পারে তদন্তের ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এটাও জানানো হয় যে রাজ্য চাইলে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারবে কেন্দ্রের থেকে। এরপরই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্প্রতি সেখানে যান জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার ৮ জন অফিসার। প্রথমে তাঁরা থানায় যান এবং আলোচনা করেন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে। তাঁদের তরফ থেকে ইউপিএ ধারা যোগ করা হয়।
এরই মাঝে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এনআইএ তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। বুধবার সেই মামলায় নিজেদের বক্তব্য জানালো আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতির তরফ থেকে জানানো হয় যে প্রায় মাঝখানেক আগে এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দায়ের করা হয়েছে এফআইআরও। যদিও বেঞ্চের তরফ থেকে জানানো হয়নি যে ইউএপিএর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করার যৌক্তিকতা নিয়ে। তবে কোর্ট জানিয়েছে যে এনআইএকে সেই রিপোর্ট দিতে হবে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










