দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যু। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমেছে তাঁর পরিবার সহ গোটা মারাঠা গড়ের উপর। অনেকে আবার এর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখছেন। তবে ঘটনায় শোকস্তব্ধ কাকা শরদ পাওয়ার অবশ্যই এতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন না। তাঁর মতে, এটি একটি দুর্ঘটনা।
তবে তা সত্ত্বেও একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই বিষয়ে। অতীতের যাবতীয় বিবাদ ভুলে ফের এক হওয়ার কথা ছিল কাকা-ভাইপোর। এমনকি সব ঠিকঠাক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে ফের এক হওয়ার ঘোষণা করার কথা ছিল অজিত পাওয়ারের। কিন্তু তার ১১ দিন আগেই সবকিছু উল্টেপাল্টে যায়। বিমান দুর্ঘটনার কারণে না ফেরার দেশে চলে যান অজিত। অনেকে মনে করছেন যে কাকা-ভাইপো ফের এক হলে চাপে পড়তো গেরুয়া শিবির এবং তা এড়ানো গেছে।
সম্প্রতি, এনসিপির দুই শিবির এক হয়ে লড়াই করেছিল (তবে আলাদা প্রতীকে) পিম্পরি-চিঁচওয়াড় ও পুণের পুরসভায়। কিন্তু তেমন ফল আসেনি। তবে মহারাষ্ট্রের জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলের ঘড়ি প্রতীকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুই শিবিরের তরফ থেকে, যা হলে গেরুয়া শিবিরের ব্যাপক সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা ছিল বারামতি-পুণের আশেপাশে। জানা গিয়েছে, গোপনে দুই শিবিরকে ফের এক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজিত। দুই দলই একসাথে লড়াই করতো ৫ তারিখের জেলা পরিষদ ভোটে। অজিত পাওয়ার বারামতি যাচ্ছিলেন দুই এনসিপির প্রার্থীদের প্রচারের জন্যই এবং ৮ তারিখে ফের এক হওয়ার কথা ঘোষণা করতেন।
তবে সবটাই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মারাঠা উপমুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। যদিও তাঁর মৃত্যুতে দুই শিবির যে আর এক হবে না, তেমনটা নয়। দু’পক্ষের নেতাদের মধ্যেই আলোচনা চলছে এই নিয়ে। হয়তো অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর একটু সময় লাগবে। তবে অবশেষে তা হবেই।



By












