দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় ফের আদালতে ধাক্কা খেলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল। আপাতত অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি কোর্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমানের এবং পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার শুনানি ফের হবে আগামী বুধবার। বিষয়টিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।
ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি দিনদিন কঠিন হয়ে উঠছে তৃণমূলের জন্য। একদিকে দল ভাঙন, একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ সৃষ্টি সহ দলের বিভিন্ন নেতাদের গ্রেফতারি ও হেনস্তা, আবার কোথাও দলের অন্দরের অসন্তোষ দলের নেতাদের জনসম্মুখে আনা। সব মিলিয়ে, বাংলার মসনদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই আবহে দলের সমস্যা বাড়িয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস চিঠি দিয়েছিলেন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শাখাকে এবং আবেদন জানিয়েছিলেন দলের সব অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করার। সেই চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূলের ১০ জন বিধায়ক লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানান পুলিশের কাছে। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দায়ের হওয়া এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ডেবিট ফ্রিজের নির্দেশ দেয় রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল।
দলের তরফ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করা হলে তিনি তিনপাতার এক চিঠিতে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। মামলার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। সোমবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয় কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী, তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা, অভিষেক মনু সিংভির তরফ থেকে। তাতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অন্যপক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন যে তালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে। তা শুনে রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন জানান, দ্রুত শুনানি না করলেও বৃহস্পতিবার প্রশ-উত্তরের সুযোগ দেওয়া হোক।
সেই অনুসারে এদিন মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। এদিন বিচারপতির তরফ থেকে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয় তদন্তকে ঘিরে। এছাড়া প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবি করা হলেও এদিন কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান সেই সংখ্যা ৮ এবং প্রশ্ন তোলেন পুলিশের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে। যদিও পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয় পুলিশের আইনজীবী তুষার মেহতার তরফ থেকে। যাবতীয় সব বক্তব্য শুনে আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় রিপোর্ট দেওয়ার। এবার দেখেন বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। জল কতদূর গড়ায় বা আগামীদিনে আর কী হতে চলেছে, এই সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন এই মুহূর্তে ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।



By










