দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আরও চাপ বৃদ্ধি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর বাড়ির কোন অংশগুলি বেআইনি বা কতটা ত্রুটি রয়েছে বা কোথায় লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসে’র সম্পত্তির অবৈধ অংশ, সেই তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে পুরসভাকে। এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি স্মিতা দাস দের তরফ থেকে। মামলার পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পর।
বঙ্গ রাজনীতির এই মুহূর্তে অন্যতম বড় আলোচনার পাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই নানাভাবে বিপাকে পড়ে চলেছেন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি। এমনকি দলের অন্দরেও মুখ পুড়েছে তাঁর। যদিও দলের বাইরের বিষয়গুলির ক্ষেত্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করে যাচ্ছেন।
এই আবহে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও লিপস অ্যান্ড বাউন্সের অবৈধ নির্মাণ নিয়ে। বুধবার তা শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি স্মিতা দাস দের এজলাসে। সেখানে তিনি কলকাতা পুরসভাকে নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির কোন অংশগুলিতে ত্রুটি বা সম্পত্তির কোন অংশে বা কত অংশে ত্রুটি বা লিপস অ্যান্ড বাউন্স সম্পত্তির অবৈধ অংশ বা কোথায়, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার। তিনি পর্যবেক্ষণে এও জানিয়েছেন যে এই সময়কালে পুরসভা নিতে পারবে বেআইনি নির্মাণ ঘিরে অন্যান্য পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বিষয়টি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় চালানো হয়েছে বুলডোজার অ্যাকশন। কদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ঠিকানায় নোটিস দেয় পুরসভা। তাদের তরফ থেকে জানা যায় যে নোটিস দেওয়া হয় হরিশ মুখার্জী রোডের শান্তিনিকেতন, ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি, ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে অবৈধ নির্মাণকে ঘিরে।
হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত বাড়িটি বৈধভাবে নির্মিত হওয়ার দাবি করে পুরসভার নোটিস বাতিলের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বক্তব্য, বৈধভাবে তৈরি হয়েছে তাঁদের ২৯-সি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্মিতা দাস দের তরফ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










